• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:০৬মিঃ

স্বাধীন মেম্বার আমাদের কেউ নন: যুবলীগ

৫:৪১ অপরাহ্ন | শনিবার, মার্চ ২০, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
sadhin

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলার প্রধান আসামি শহীদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মেম্বার যুবলীগের কেউ নয় বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের জেলা শাখা।

স্বাধীন দিরাই উপজেলা সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে।

শনিবার প্রথম প্রহরে মৌলভীবাজার থেকে স্বাধীনকে আটক করে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই। দুপুরে যুবলীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার মঞ্জুর বলেন, ‘শহীদুল ইসলাম স্বাধীন নামে জনৈক ব্যক্তিকে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হিসেবে কিছু কিছু প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি যুবলীগের কোনো সাংগঠনিক ইউনিটের সঙ্গে জড়িত না। আমরা এই ধরনের সংবাদ পরিবেশনের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৭ সালের পর থেকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় যুবলীগের কোনো পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কমিটি নেই।

ওই বছর রঞ্জন রায়কে সভাপতি ঘোষণা করে কমিটির বাকি সদস্যদের নাম পরে জানানোর কথা বলা হয়। কিন্তু ১৪ বছরেও সেই কমিটির অন্য কারও নাম জানানো হয়নি।

‘মনগড়া’ সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এই হামলায় দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ারও আহ্বান জানায় যুবলীগ।

স্বাধীনের ব্যক্তিগত নৌকায় ‘৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি’ লেখার কারণ জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা খন্দকার মঞ্জুর বলেন, ‘সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনেক সময় অনেক মানুষ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা নিয়ে নেয়। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

গত ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর হামলাকারীদের ‘মদদদাতা’ হিসেবে স্বাধীন মেম্বারের নাম আসে। হামলার পরদিন স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়ের করা মামলাতেও স্বাধীনকে আসামি করা হয়।

হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে এক যুবকের দেওয়া স্ট্যাটাসের জেরে ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজারও লোক মিছিল নিয়ে এসে এই হামলা চালায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীদের বেশিরভাগই আসে স্বাধীনের গ্রাম দিরাইয়ের নাচনি থেকে। স্বাধীন মেম্বারও হামলাকারীদের দলে ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই হামলা হয়। স্বাধীন মেম্বারের সঙ্গে জলমহাল নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জেরে মামুনুল অনুসারীদের সঙ্গে তিনি এই হামলায় অংশ নেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।