• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৩:১৫মিঃ

মাগুড়ায় ৫০টি হিন্দু পরিবারকে ধর্মান্তরিত হওয়ার চিঠি, গ্রেফতার-৪

১০:৩২ অপরাহ্ন | সোমবার, মার্চ ২২, ২০২১ খুলনা
Magura news

মতিন রহমান, মাগুড়া প্রতিনিধি : মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলার দুটি গ্রামে সংখ্যালঘুদের কাছে শুক্রবার রাতের আধারে চিঠি পাঠিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ২১ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিরা কোন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন মাগুরার পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক চার ব্যক্তি হলেন শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের মনজু বিশ্বাসের ছেলে ইউসুফ বিশ্বাস ওরফে ইবনুল (৩৪), চর মহেশপুর গ্রামের ইয়াকুব মোল্লার ছেলে কোরবান আলী (৩৬), দারিয়াপুর গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮) এবং কচুয়া গ্রামের মোস্তাকিম বিল্লাহ (২৮)। তাঁদের মধ্যে ইউসুফ বিশ্বাস এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। অন্যরা সবাই চিঠিটি বিতরণের সঙ্গে জড়িত। আটককৃত ছাড়াও এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আয়নান, সুরত আলী, মারুফ, নোমান খান, জিয়া শেখ, মিরাজ খান, সোহান খান, ইসমাইল শেখ, রিয়াজ, ওবায়দুল্লাহ, নিরব হোসেন, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর, শাহাদত, কোরবান আলী, তাহাজ্জত, জহিরুল ইসলাম ও সালমান কে মামলায় আসামী করা হয়েছে। তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফ ঢাকা কলেজে পরিসংখ্যান বিভাগে স্নাতকের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু স্নাতক শেষ না করেই তিনি এলাকায় কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয়দের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া এবং প্রচারের উদ্যোগ নেন। শুক্রবার রাতে শ্রীপুর উপজেলার চরগোয় গোয়ালদহ ও মালাইনগর গ্রামে প্রায় অর্ধশত সংখ্যালঘু পরিবারের কাছে উড়ো চিঠি পাঠান তারা। হাতে লেখা সেই চিঠিতে মূর্তি পূজা ছেড়ে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। শনিবার ওই এলাকায় সমাবেশ করে এলাকাবাসীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান মাগুরা-১ আসনের সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানা-পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা জানতে রবিবার সকালে একটি আদেশ দিয়েছেন মাগুরার একটি আদালত। রোববার বিকেলে শ্রীপুর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমীন ওই আদেশ দেন।

পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, রোববার আটক ওই ব্যক্তিদের কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁরা যে প্রচারপত্র বিলি করেছেন তাতে হিংসা, ক্রোধ বা আক্রমণাত্মক কোনো ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। তবে রাতে অন্ধকারে নাম পরিচয় বিহীন ওই প্রচারপত্রে কিছু কথা সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই অভিযোগেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।