• আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম, গড়লেন ইতিহাস

১১:০৮ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, মার্চ ২৩, ২০২১ খেলা
tamim

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- ডানেডিনে প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বল উড়িয়ে মেরেছিলেন তামিম ইকবাল। হয়তো বোঝাতে চেয়েছিলেন দিনের বাকি সময়টা বেশ ভালোই যাবে। ওই ছক্কা হাঁকিয়েই দলের ও নিজের রানের খাতা খুলেছিলেন তামিম। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের বিধ্বংসী বোলিং আর ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে দিনের সূর্যটা সেদিন মেঘে ঢাকা পড়েছিল।

তবে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেই ট্রেন্ট বোল্টকে উড়িয়ে না মারতে পারলেও বলকে মাটি কামড়ে সীমানা ছাড়া করেছেন। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে লিটন দাস ফিরে গেলেও তামিম তার চরিত্র পাল্টাননি। খোলসেবন্দি সৌম্য সরকারকে নিয়ে অপর প্রান্তে ধীরে ধীরে সাবলীল ব্যাট করতে থাকেন তামিম।

প্রথম ওয়ানডের দিনে জন্মদিনকে সেভাবে রাঙাতে না পারলেও আজ তার ব্যাট কথা বলেছে। সেই ব্যাটে ভর করেই তামিম তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চাশতম ওয়ানডে ফিফটি। দেশের ইতিহাসে তামিমই প্রথম ফিফটির মাইলফলক স্পর্শ করলেন। আর এ ফিফটির মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশি হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ রানের বেশি ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানও হয়ে গেলেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে এটি তামিমের ষষ্ঠ অর্ধশত রানের ইনিংস। এত দিন ধরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস ছিল তামিম ও সাকিবের। আজ সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম।

২১২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তামিমের এটি ৬৩তম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। এর মধ্যে ১৩টি রয়েছে সেঞ্চুরি। আর বাকি ৫০টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস। সেঞ্চুরি কিংবা ফিফটির পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের আর কেউই তামিমের ওপরে নেই।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের মালিকও এখন তামিম। এখানেও সাকিবকে টেক্কা দিয়েছেন তিনি। ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে সাকিব কিউইদের বিপক্ষে করেছেন ৬৩৯ রান। এখন সেটি ছাড়িয়ে গিয়েছেন তামিম।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ দল। ইনিংসের প্রথম ২০ ওভারে লিটন ও সৌম্যকে হারালেও একপ্রান্ত ধরে রাখেন তামিম। তামিমের ব্যাট থেকে আসা এক-দুই রান আর কিছু বাউন্ডারি বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখে। ইনিংসের ২৫তম ওভারে এসে মিচেল স্যান্টনারকে লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে নিজের ৫০ পূরণ করেন তামিম। ফিফটি পূর্ণ করতে ৮৪টি বল খরচ করেন।

তবে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ অধিনায়কের এই ধৈর্যশীল ইনিংস। কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশামের লেংথ বলটা বেশ ভালোই সামলেছিলেন মুশফিক। রান নেওয়ার জন্য তাকিয়েছিলেন সঙ্গী তামিমের দিকে। এক রান নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়ে যায় তখনই। কিন্তু নিশাম দুই ব্যাটসম্যানকে সময় দেননি মোটেও। ক্ষণিকের জন্য এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার যেন হয়ে গেলেন ফুটবলার। নিচে নেমে বল কুড়িয়ে স্টাম্প না ভেঙে পাকা ফুটবলারের মতো বলে লাথি দিলেন, যা ভেঙে দিল স্টাম্প। তামিম সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। ১০৮ বলে ১১ চারের সাহায্যে ৭২.২২ স্ট্রাইক রেটে ৭৮ রান করেই থেমে যায় তামিমের ইনিংস।