• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের কনিষ্ঠতম মুসলিম সরকারি কর্মকর্তা বুশরা

১:১০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, মার্চ ২৩, ২০২১ ইসলাম
bushra

ইসলাম ডেস্ক- যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কনিষ্ঠ মুসলিম কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরের বসবাসকারী বুশরা অ্যামিওয়ালা। মাত্র ২১ বছর বয়সে স্কোক স্কুল বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘আওয়ার অ্যামেরিকা: উইম্যান ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক এক তথ্যচিত্রে তার কৃতিত্ব তুলে ধরা হয়। এবিসি-সেভেন-শিকাগোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটা জানা গেছে।

কয়েক দশক আগে বুশরার বাবা-মা পাকিস্তানের করাচি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। প্রথমদিকে আমেরিকায় এসে বুশরার বাবা কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন।

বুশরা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ওই সময় বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল তাদের মেয়ে এক দিন আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবে। তাদের ভাবনা ছিল, এক দিন মুসলিম নারী হিসেবে সমাজের কাছে আদর্শ হয়ে উঠবে।

বুশরা ১০ বছর বয়স থেকে সপরিবারে ইলিনয়সের স্কোক কুক কাউন্টিতে বসবাস শুরু করেন। এখানের নাইলস নর্থ হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ডেপাউল বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিষয়ে স্নাতকপর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তা ছাড়া সমাজসেবা ও সরকারি নীতি বিষয়েও পড়াশোনা করেন।

২০১৮ সালে বুশরা স্কোকি ইলিনয় শহরের প্রাথমিক নির্বাচনে কাউন্টি বোর্ড অব কমিশনার্সের কনিষ্ঠতম ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট লাভ করেন। এ নির্বাচনে তিনি ল্যারি সাফরেডিনের কাছে হেরে যান। এরপর সাফরেডিনের পরামর্শে ইলিনয়ের শিক্ষা অফিসের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হোন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাজসেবা ও শ্রেষ্ঠ তরুণ হিসেবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সম্মাননা পুরস্কার এশিয়ান আমেরিকান কোয়ালিশন অব শিকাগো (এএসিসি) লাভ করেন।

‘চেঞ্জিং আমেরিকা’র এক সাক্ষাৎকারে বুশরা বলেন, ‘সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে উদার মনোভাব নিয়ে নারীরা নিজেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন, তা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

বুশরা বলেন, ‘নারী হিসেবে আমাদের পোশাক হিজাবকে অনেক ক্ষেত্রে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়। তাই সব সময় মানুষকে বলতে শোনা যায়, মুসলিম তরুণী সরকারি পদপ্রার্থী হয়ে কাজ করছেন। অথচ তারা আমার নামও জানেন না।’

বুশরা সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। প্রথমে বুশরা সমাজের দারিদ্র্য, ক্ষুধা, গৃহহীন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষাগত বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন তিনি।