• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শাল্লায় হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলা: প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বার ৫ দিনের রিমান্ডে

৪:৩৫ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, মার্চ ২৩, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
shadin

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁওয়ে জলমহাল নিয়ে পূর্ব বিরোধে হামলা, ভাংচুর মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে ৫ দিনের ও বাকি ২৯ জনকে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

জেলার দিরাইয়ের তাড়ল ইউনিয়নের ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম স্বাধীন যুবলীগের নেতা বলেও জানা গেছে। শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের বাড়ি শাল্লা উপজেলার পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের নাচনি গ্রামে।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জের শাল্লাজোনের বিচারক শ্যামকান্তি সিনহার আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর পূর্ব গত রবিবার পুলিশ স্বাধীনকে ১০ দিন ও আরো ২৯ জনকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত আজ মঙ্গলবার দুপুরে শুনানী শেষে স্বাধীনকে ৫ দিন এবং অন্যদের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর পূর্বে গত শুক্রবার (১৯ মার্চ) গভীর রাতে শাল্লার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলামকে (স্বাধীন মেম্বার) মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই সিলেট।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত জেলার দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলা ও মামলার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। রবিবার বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাশার স্বাধীন মেম্বারকে ১০ দিনের ও বাকী ৩২ আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে জামিন শুনানি না করে স্বাধীনকে কারাগারে পাঠান আদালত।

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ বলছেন মামুনুল হক বিরোধী ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আবার কেউ বলছেন স্থানীয় একটি জলমহাল নিয়ে এ তান্ডব চালানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর নেপথ্যের ঘটনা বেরিয়ে আসাতে শুরু করেছে মূল ঘটনা।

জানা যায়, দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বাধীন বরাম হাওরের কুচাখাই বিলের ইজারাদার। তিনি বিলের পানি শুকিয়ে মাছ ধরায় ফসলি জমির পানি সংকট দেখা দেয়। অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ করায় নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুটন দাসসহ গ্রামের অনেক কৃষকই প্রতিবাদ করে আসছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা জগদীশ দন্দ্র দাস শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্বাধীন মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর থেকে ক্ষেপে ওঠেন স্বাধীন মেম্বার ও একই গ্রামের পক্কন মিয়া।

এদিকে, ১৫ই মার্চ দিরাইয়ে হেফাজাতের শানে রিসালত সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ মামুনুল হক বক্তব্য রাখেন। পরে ১৬ই মার্চ মঙ্গলবার ঝুমন দাশ আপন নামের এক হিন্দু যুবক হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিমুলক স্ট্যাটাস দিলে তা সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বিক্ষোভের মুখে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

স্বাধীন মেম্বার ফেইসবুকের স্ট্যাটাসকে কাজে লাগিয়ে চার গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করেন। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে নোয়াগাঁও গ্রামে স্বাধীন মেম্বারের নেতৃত্বে ১৭ মার্চ বুধবার সকালে শাল্লার নয়াগাঁও হিন্দু পাড়ায় বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর হয়। এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাতে।

দুই মামলার একটির বাদী শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম। অন্য মামলার বাদী স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। চেয়াম্যানের নিজ বাড়ি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। যেখানে হিন্দুদের বাড়িঘরে বুধবার সকালে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

মামলায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ দিরাই থানার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চন্দ্রপুর,নাচনী এবং শাল্লা থানার হবিবপুর কাশিপুর গ্রামের ১৫০০জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ঘটনার উস্কানিদাতা নাচনী গ্রামের বাসিন্দা সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ সভাপতি স্বাধীন মিয়াকে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর গত বৃহস্পাতিবার গভীর রাতে ২২জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৩ টায় মামলার প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বারকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরপর ৭ জন ও রবিবার আরও তিনসহ এ ঘটনার ২টি মামলায় আজ মঙ্গলবার একজন আটকসহ মোট ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।