• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১১:২৭মিঃ

স্ত্রীর অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি; যুবলীগ নেতার নামে মামলা

২:২৭ অপরাহ্ন | বুধবার, মার্চ ২৪, ২০২১ ময়মনসিংহ
forid

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার- ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা যুবলীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ জয়ের (২৮) বিরুদ্ধে স্ত্রীর অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে টাকা দাবি করায় আদালতে মামলা হয়েছে। ধারণ করা অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন ওই যুবলীগ নেতা।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ভিক্টিম বাদী হয়ে ময়মনসিংহে ৬নং আমলী আদালতের বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান’র আদালতে মামলা দায়ের করেন। ফরিদ আহম্মেদ জয় তারাকান্দা উপজেলা যুবলীগের সদস্য।

স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে জানা যায়, জেলার ত্রিশালের এক যুবতীর সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় যুবলীগ নেতা ফরিদের। পরিচয়ের সূত্র ধরেই তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী এক মুন্সির মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন। পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার নিয়ে গিয়ে তিন দিন হোটেলে রাত্রিযাপন করে গোপনে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন।

ওই অশ্লীল ভিডিও আমার মোবাইলে পাঠিয়ে টাকা দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে ভিডিও ডিলিট করে দেবার শর্তে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেই। কিন্তু সে ভিডিও ডিলিট না করে হুমকি দিতে থাকলে আমি র‌্যাব অফিসে অভিযোগ করি।

র‌্যাবের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে সে ভুল স্বীকার করে গত ৪ মার্চ ময়মনসিংহ শহরে আসলে সে আবারও আমাকে নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে করে। পরে আমাকে তারাকান্দা উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে এক বাসায় নিয়ে যায়। সেখানো আমাকে দুই দিন আটকে রেখে সে ও তার তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ তারাকান্দা থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি আমাকে আটকে রেখে সাদা কাগজে আমার মা’র স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শাজাহান কবীর সাজু বলেন, ভিকটিম বাদি হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলাটি দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি তারাকান্দাকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এফআরআই করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে, এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে যুবলীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ জয়ের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ফরিদের বিরুদ্ধে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ওই নারী থানায় এসেছিল। পরে জানতে পারি ফরিদ তাকে বিয়ে করেছে।

ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে আটকে রাখার বিষয়ে ওসি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সঠিক নয়। আদালতের কাগজ এখনো হাতে পাইনি। আদালতের কাগজ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।