• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘নিষ্ক্রিয়’ ছাত্রদলের সমালোচনায় মির্জা ফখরুল

১০:২৫ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৫, ২০২১ জাতীয়
Mirza Fokrul

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- সারাদেশে অন্যায় অত্যাচার চলছে অভিযোগ করে ‘নিষ্ক্রিয়তার কারণে’ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমালোচনা করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদেরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আজকে সারাদেশে যে অন্যায়-অবিচার সমস্ত রাজপথ প্রকম্পিত হওয়া উচিত ছিল। আপনাদের যতক্ষণ এই বোধ না আসবে যে কারাগারে বাস করছি, শৃঙ্খলিত অবস্থায় বাস করছি ততক্ষণ কেউ শৃঙ্খল ভাঙতে পারবে না। আসলেই বিপ্লব, বিদ্রোহ, সংগ্রাম ছেলে খেলা নয়।’

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন ফখরুল।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের দিনটিতে এই আলোচনার আয়োজন করে ৯০ এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

বর্তমান সরকারকেও স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘গত ১০-১২ বছরে আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মী আসামি হয়েছে, ৫০০ ওপর গুম হয়েছে, হাজারের বেশি খুন হয়েছেন।’

ছাত্রদলের পাশাপাশি নিজেদেরও ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘প্রতি মূহুর্তে আমরা আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত, কিন্তু আমরা এখনও সেভাবে তাদের বিরুদ্ধে দঁড়াতে পারিনি। এ দায়-ব্যর্থতা আমাদের সকলের। গণতন্ত্রকে যারা বিশ্বাস করি এ দায় থেকে আমরা সরকারকে সরাতে পারিনি। আমাদেরকে কেউ গণতন্ত্র এনে দেবে না, নিয়ে আসতে হবে। এজন্য সমস্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার অবৈধ কাজ, মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত কৌশলী সরকার। তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন কর সব সময়, কারণ তারা এটা না করলে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

তিনি বলেন, এই সরকার অত্যন্ত কৌশলী। সবসময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। এটা অবলম্বন না করলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তারা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি, তারা জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এজন্য তারা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আড়ালে পালন করছে মুজিব বর্ষ। সুবর্ণজয়ন্তী পালন করলে জনগণকে সাথে নিয়ে করতেন।

প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠান করছে সেখানে শুধুমাত্র প্রশাসন, আমলা, কিছুসংখ্যক তাবেদার গোষ্ঠি। আর তো কাউকে দেখা যায় না। এর বাইরে কিছু বিদেশি মেহমান নিয়ে আসছেন। সেই মেহমানদের দিয়ে বলাতে চান- এক অভূতপূর্ব অলৌকিক উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের সামনে কোনো অভাব নাই। অথচ আমাদের চালের দাম ৮০ টাকা, তেলের দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে, সাধারণ মানুষের সব কিছু ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ওরা যতই বলুক, যতই ঢাকঢোল পিটাক, সত্যটা হচ্ছে গরিব আরো গরীব হচ্ছে, ধনী আরো ধনী হচ্ছে। মেগা প্রকল্প শুধুমাত্র মেগা দুর্নীতি তৈরি করছে।

সারাদেশে করোনা প্রকোপ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আবার করোনাকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নাকি পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ এটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করার দরকার ছিলো সেসবের কোনো কাজই তারা করে নাই। এখন আইসিইউ বেড নেই। কেন, এক বছর ধরে কি করলেন? কেনো মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেন না।

আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক বিনস্টের সবকিছু হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে। একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখুন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কত জমি, কত বাড়ি কারা দখল করে আছে। বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের লোকেরা দখল করে আছে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে। এতটুকু জায়গায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গাদের রাখা, তাদের ভরন-পোষণ করা, তাদেরকে সুন্দরভাবে রাখা-এটা বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না করে এটাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করার জন্য আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোনো রাষ্ট্র সফর করেননি। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতের সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বললেও সেই দেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কোনো কথা বলেনি। চীন আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। কারন সরকারের ব্যর্থতা। তাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।