• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ছিলেন বিএনপির সহ-সভাপতি, এখন হতে চান আ.লীগের সভাপতি!

১২:৩২ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মার্চ ২৬, ২০২১ ঢাকা

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগে নব্যযোগদানকারী আব্দুর রউফ মিয়া ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ বেশকয়েকজন নেতা কেন্দ্রীয় আ.লীগ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আব্দুর রউফ মিয়া। বিএনপির রাজনীতির সাথে একসময় ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। মিছিল-মিটিং-সভা ইত্যাদি দলীয় কার্যক্রমেও নেতৃত্বের স্থানে থাকতেন। ২০১৬ সালে বিএনপির জালাও-পোড়াও আন্দোলনের পুলিশি মামলায় আসামী ছিলেন। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই সময়কালীন হওয়া মামলাটি চলমান রয়েছে।

আব্দুর রউফ’র বিএনপির পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এম.পি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। তিনি আরও জানান, বিএনপি থেকে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সে মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে আ.লীগের কর্মী বা নেতা দাবি করলেও এখন পর্যন্ত সে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেননি!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির অপর এক নেতা জানান, রউফ মিয়া ২০১৭ সালে ফতেপুর ইউনিয়ন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র থেকে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন এম.পি ও সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদসহ অন্যান্য নেতাকে ফুলের নৌকা দিয়ে আ.লীগে যোগ দেন।

তার কিছুদিন পরই দলীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় বাগিয়ে নেন ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সদস্য পদ। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উপজেলা আ.লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে সেলফি তুলে তার ফেসবুক টাইমলাইনসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে দাবি করেন!
সম্ভাব্য আগামী ৩১মার্চ’২১ ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন ফরমও ইতিমধ্যে উত্তোলন করেছেন আব্দুর রউফ!

এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গেলো বৃহস্পতিবার (১১মার্চ) উপজেলা আ.লীগের সদস্য মো. বাহার উদ্দিন মাস্টার ও ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি হাজী মো. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আজমসহ বেশকয়েকজন নেতৃবৃন্দ উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আ.লীগ বরাবর নব্যযোগদানকারী আব্দুর রউফকে কাউন্সিলর-সভাপতি না হওয়া প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।

উপজেলা আ.লীগের সদস্য মো. বাহার উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমরা উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আ.লীগ বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। আমরা চাই আ.লীগের পরিশ্রমী যোগ্য নেতারাই এই সভাপতি সম্পাদকের পালন করুক। এ বিষয় নিয়ে পুরো মির্জাপুরের আ.লীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের মাঝে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

এ ব্যাপারে আবদুর রউফ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগে এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি বিএনপির কোনো পদে ছিলেন না বলে দাবি করেন। উল্লেখ করেন, বিএনপি থেকে কখনোই মনোনয়নও চাইনি। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আসন্ন ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থীতা ঘোষণা করে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছি।

জানতে চাইলে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগ থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছি। এখন অভিযোগপত্র দিয়ে আর কি হবে? ৪ বছর পূর্বে দলে যোগদানের পরপরই রউফ চেয়ারম্যানকে ফতেপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সদস্য পদ দেয়া হয়েছে!

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আ.লীগের দফতর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগপত্রটি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যদি মির্জাপুর উপজেলা আ.লীগ এ ব্যাপারে জেলা আ.লীগের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দেয় তাহলে আমরা সে বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।

প্রসঙ্গত; দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণানুযায়ী ০৯ বছর সময়কাল অতিবাহিত না হওয়ার পূর্বে নবযোগদানকৃতরা আ.লীগের কোনো পদের প্রার্থী বা দলীয় পদ পাবেন না।