• আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ থেকে কয়েকজন আটক

৫:১৫ অপরাহ্ন | শনিবার, মার্চ ২৭, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
atok

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ভাসানী অনুসারী প‌রিষ‌দের সমা‌বেশ থে‌কে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) মোদীবিরোধী বিক্ষোভে হামলা ও সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যুর প্রতিবাদে শনিবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

সমা‌বেশের শে‌ষদিকে পু‌লি‌শের সঙ্গে সংগঠনটির নেতাকর্মী‌দের ধাক্কাধা‌ক্কির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই সমাবেশ শেষে পুলিশ ১০-১২ জনকে আটক করে বলে দাবি করেছে কর্মসূচির আয়োজকরা। তবে পুলিশ বলছে, দু-তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ সমাবেশ শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীরা।

এ সমাবেশে নেতাকর্মীদের নিয়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাজির হন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ৪ মিনিটের বক্তব্য দেন নুর। নুরের বক্তব্যের সময়ই সমাবেশ ঘিরে ফেলে পুলিশ। বক্তব্য শেষে নুর ও তার নেতাকর্মীরা দক্ষিণ দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করলে তাদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। তখন তারা সমাবেশে ফিরে যান। এরপর নুর ও তার নেতাকর্মীরা জোনায়েদ সাকি ও ডা. জাফরুল্লাহর পাশে অবস্থান নেন।

সমাবেশের মাইক নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি পুলিশকে বারবার আটক না করার অনুরোধ জানান। এ সময় জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমি আপনাদের (উপস্থিত পুলিশ) অনুরোধ করছি, এই সমাবেশ থেকে কাউকে গ্রেফতার করবেন না। প্লিজ। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছি, আমরা আর কিচ্ছু করবো না।’

সাকি কথা বলা শেষ করলে একজন স্লোগান দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ভিপি নুর মাইক নিয়ে সবাইকে শান্ত হতে বলেন।

এ সময় নুর বলেন, ‘আপনারা এখানে কোনো প্রকার উসকানি বা বিক্ষোভ করবেন না। শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রতিবাদ সম্পন্ন করতে দেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ করা উচিত হবে না। সুতরাং কোনো ধরনের উশৃঙ্খল বক্তব্য বা উত্তেজনা ছড়াবেন না। পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।’

এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে পুলিশ সমাবেশ ঘিরে রাখে। দুপুর ১টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। সমাবেশে সর্বশেষ বক্তব্য রাখেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনিও সমাবেশ থেকে কাউকে আটক না করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে ডা. জাফরুল্লাহসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নুর ও তার নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের ভেতরের দিকে রওনা দেন। তখন প্রেস ক্লাবের গেট খুলতে বাধা দেয় পুলিশ। ফলে কেউ প্রেস ক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিল না। সেখান থেকে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ১০-১২ জনকে পুলিশ আটক করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধ করা হয়েছিল তাঁরা যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, এমন কোনো কার্যক্রম না করেন। সমাবেশ থেকে আগের মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দু–তিনজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামি না হলে যাচাই–বাছাই করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে।