ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইয়াবার চালান কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে উদ্ধার

১০:৩৩ পূর্বাহ্ন | সোমবার, মার্চ ২৯, ২০২১ চট্টগ্রাম
police

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ২২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় প্রায় পুড়ানো অবস্থায় ৩ মোটর সাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

রবিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে পৌরসভা সিকদার পাড়া এলাকার জকরিয়ার পূত্র সালাহ উদ্দিনের প্রাইভেট কার থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়ছে বলে জানান থানার ওসি আব্দুল হাই। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়া ও তার চাচাত ভাই সালাহ উদ্দিনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তার প্রেক্ষিতে দুর্বৃত্তরা গত রাতে মেয়র মকছুদের সমর্থকের উপর গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হন নুর হোসেন (৪০), কাউছার (৩০) ও ভূবন(৩৫)।

তাদেরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করার পর এই ঘটনার জের ধরে দুর্বৃত্তরা সালাহ উদ্দিনের গ্যারেজে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতরাত ২টার দিকে পৌরসভার মেয়রের কার্যালয়ের পাশে গুলাগুলির খবর পেলে ওসি আব্দুল হাই এর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যায় মহেশখালী থানা পুলিশ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সন্দেহভাজন মাস্টার মাইন্ড সালাহ উদ্দিনের খোঁজ নেয় পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সালাহ উদ্দিনের গ্যারেজে আগুন লাগে। খবর পেলে তার বাসায় যায় পুলিশ।

এ সময় গাড়ীর পিছন থেকে অক্ষত অবস্থায় ৪ লাখ ২ হাজার ইয়াবা ও আংশিক পুড়ানো অবস্থায় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ মোট ৬ লাখ ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে কে বা কারা গ্যারেজে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

মহেশখালী থানার ওসি আব্দুল হাই জানান, মহেশখালীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইয়াবা চালান উদ্ধার এটি। ইয়াবার উৎস ও কারবারের সাথে কে বা কারা জড়িত আছে তা বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ওসি জানান।

উল্লেখ্য, গত বছর বাহারছড়া শামলাপুর চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যাকান্ডের পর প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় মাদক কারবারীরা স্বগৌরবে ফিরে এসে ওপেন সিক্রেটে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা শিথিল থাকার সুবাদে মাদক কারবারীসহ নানা অপরাধীরা বীরদর্পে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। তাদের কঠোর হাতে দমনের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলের পরিকল্পিত এবং কঠোর পদক্ষেপ দরকার বলে সুশীল সমাজ মনে করছেন।