• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হৃদরোগের চিকিৎসায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে চালু হয়েছে ‘ক্যাথল্যাব’

১১:১১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, মার্চ ৩০, ২০২১ ময়মনসিংহ
Mymensing news

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ক্যাথল্যাব চালু করা হয়েছে। হৃদরোগ নির্ণয়ে এতো দিন রোগীদের বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হতো। অনেক রোগীদের জন্যই তা ছিল কষ্টকর এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব বিষয়।

ক্যাথল্যাব চালু করার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। এতে করে ময়মনসিংহবাসীর বহু দিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রবিবার (২৮ মার্চ) এ ল্যাব চালু করে মোট ৬ জন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রথম দিনেই ২ জন রোগীকে পরানো হয় রিং। কম খরচে দোরগোড়ায় এমন সেবা পেয়ে খুশি রোগীর পরিবার ও স্বজনরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদের উদ্যোগে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ক্যাথল্যাব সংযোজন হলেও একজন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ ছিল এই ল্যাব। লোকবলের সংকট নিয়েই শেষ পর্যন্ত হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা একদল বিশেষজ্ঞের সহায়তায় ক্যাথল্যাব চালু করতে পারায় হৃদরোগীদের জন্য খুলে যায় সম্ভাবনার দুয়ার। এ ক্যাথল্যাবে হৃদরোগীর রক্তনালীর ব্লক নির্ণয় ছাড়াও সম্ভব হবে রিং পরানো। এছাড়া পেসমেকার লাগানো, শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ হৃদরোগ সংক্রান্ত অনেক রোগেরই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নাজমুল হক (৭৮) ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া মোড়লবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। বুকের প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে।কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ক্যাথল্যাবে এনজিওগ্রাম পরীক্ষার পর হার্টে ২টি ব্লক ধরা পড়ে। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে নাজমুলকে রিং পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সুস্থ আছেন।

নাজমুলের স্বজনরা জানান, রাজধানী ঢাকায় এটি করা ব্যয় সাপেক্ষ ছিল। অনেকের পক্ষেই যা সম্ভব না। হাতের কাছে কম খরচে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহ মেডিকেলে এই সেবা পেয়ে খুশি তারা।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. গণপতি আদিত্য বলেন, হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ৫০ বিছানার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকছে ২০০ জনের বেশি। এসব রোগী সামাল দিয়েই সচল রাখতে হবে ক্যাথল্যাবকে। বিদ্যমান অবস্থায় আপাতত প্রতি সপ্তাহে একদিন এনজিওগ্রাম করা হবে হৃদরোগীদের। একজন ইন্টারভেনশন কার্ডিলজিস্ট নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়ন করা হলে পুরোদমে চালু হবে ক্যাথল্যাব।

তিনি আরও বলেন, সকলের আন্তরিক সহায়তায় ল্যাবটি চালু হয়েছে। এ ল্যাবটি ভবিষ্যতে আরও বেশী সংখ্যক রোগিকে চিকিৎসা দিতে পারবে বলে আশা করছি এবং সেভাবেই উদ্যোগসহ প্রস্তুতি নিচ্ছি। ল্যাবটি চালু হওয়ায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ক্যাথল্যাব চালুর বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল কবীর জানান, ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলার হতদরিদ্র রোগীদের হৃদরোগ নিরাময়ে কার্যকর ফল বয়ে আনতে এই ক্যাথল্যাব চালু করা হয়েছে। নতুন এই সেবা কার্যক্রমকে সচল রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।