• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত

১১:৩৭ পূর্বাহ্ন | বুধবার, মার্চ ৩১, ২০২১ সিলেট
ধান

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- মাত্র ১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড় ও আধাঘণ্টার বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের নয়টি উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে সাড়ে ২০ লাখ মানুষ।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে দশটার দিকে হবিগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টির সঙ্গে ধমকা হওয়া বয়ে গেছে। এতে বিদ্যুতের অসংখ্য খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে; এমনকি অনেকের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ১৫ মিনিটের মতো বিধংসী ঝড় হয়। যদিও পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় ঘন্টাখানেক সময় লাগে। এরপর হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ে আরও কিছুক্ষণ। ঝড়ের তোপে অনেক এলাকার গাছ ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় বিলবোর্ডও খসে রাস্তায় এসে পৌঁছেছে। বেশিরভাগ রাস্তায় গাছের ছোট-ছোট ডাল-পাতা পড়ে রয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় কমপক্ষে ২০টি স্থানে বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পড়েছে। একটি স্থানে ট্রান্সফরমারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পুরো জেলায়ই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ঝড় বন্ধ হওয়ার পর পরই লাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। সংযোগ চালু না করার জন্য অনেক গ্রাহক ফোন করেছেন।

তবে কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না। রাত সোয়া এগারোটায় শুধু মাধবপুর উপজেলার দুইটি সাব স্টেশন চালু হয়েছে বলেও জানিয়েছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

শায়েস্তাগঞ্জে চৈত্র মাসের প্রথম তীব্র ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে শুরু হয় প্রবল ধমকা হাওয়া। এর কিছুক্ষণ পরেই প্রবল ঝড় শুরু হলে, শুরু হয় শিলা বৃষ্টি। প্রায় এক ঘন্টার ঝড়বৃষ্টির মাঝে দশ মিনিটের মতো শিলাবৃষ্টি হয়। এতে শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

এদিকে শিলাবৃষ্টিজনিত কারণে ফসলের বেশ ক্ষতি হতে পারে বলে আশংকা করছেন কৃষকরা। এই মৌসুমে শিলা বৃষ্টিতে আমের মুকুলেরও ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা অনুমান করা যায়নি।

কৃষকরা জানান- এ মৌসুমে শুধু বৃষ্টিপাত হলে ফসলী জমির জন্য বেশ উপকার হত। আর কিছুদিনের মধ্যেই কৃষি জমিতে ধান গজাবে। কিন্তু শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক ধান গাছের আগা ভেঙ্গে গিয়েছে। এতে করে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন তারা।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘শিলা বৃষ্টিতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। তারপরও যদি কোন কৃষকের ক্ষতি হয়ে থাকে তাহলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করব।’