হেফাজতের সহিংসতা: মামলায় আসামি বিএনপির মৃত নেতা

৩:৪৯ অপরাহ্ন | বুধবার, মার্চ ৩১, ২০২১ ঢাকা
fire

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যসহ জেলার একাধিক নেতা-কর্মীকে।

পুলিশ বলছে, সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতেই পুলিশ তাদের আসামি করেছে।

মামলায় বিএনপির এক মৃত নেতার নামও রয়েছে। ওই নেতার নাম আলী হোসেন প্রধান। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ কারাগারে মারা যান আলী হোসেন প্রধান। ওই বছর ৩ নভেম্বর একটি রাজনৈতিক মামলার গ্রেফতার হন তিনি।

ওই বছর ৩ নভেম্বর নাশকতা ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বিএনপির এ নেতা মারা যাওয়ার চার বছর পর সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি নাশকতা মামলার ৭ নম্বর আসামি হয়েছেন তিনি।

হেফাজতের ডাকা হরতালে আলী হোসেনের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা দায়ের করেন থানার এস আই (নিরস্ত্র) কাজল চন্দ্র। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতা মামলার খবর প্রকাশ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় পৃথক ৬টি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ২৫ থেকে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি এবং র‌্যাব বাদী হয়ে একটি, মোট ছয়টি মামলা করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, জনগণের জানমালের ক্ষতি, নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সড়ক অবরোধ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি এবং র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।

ওসি বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনে পুলিশের চারটি ও র‌্যাবের একটিসহ মোট পাঁচটি মামলা এবং সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও আহত করার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করে। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িত লোকজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, পুলিশের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন, তার ছেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, আবদুল হাই রাজু, বিলুপ্ত মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু, মহানগর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবুসহ থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

পুলিশের করা মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে ১৩৬ জনের। এ ছাড়া তিন হাজারের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান সহিংসতায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, হেফাজতের হরতাল তারা সমর্থন করেননি। হেফাজত হরতাল করেছে কিন্তু মামলার আসামি করা হয়েছে বিএনপির জেলা ও থানা পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মীকে। এমনকি বিএনপির এক মৃত নেতাকেও আসামি করা হয়েছে। আসলে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতেই তাদের আসামি করেছে।