• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৯:০৭মিঃ

চাঁদপুরে লাখো ভক্তের ‘লেংটার মেলা’ ঠেকাতে তৎপর পুলিশ

১০:৩৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১, ২০২১ দেশের খবর

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর: করোনা ভাইরাসের কারণে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে লাখো লাখো ভক্তের সমাগমে বহুল পরিচিত হযরত শাহ্ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

১৭ চৈত্র থেকে ৭ দিন ব্যাপি শুরু হতে যাওয়া (বেলতলি) বদরপুর হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শণার্থীরা শাহ সোলেমান (র.) মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ছুটে আসছে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কথা বিবেচনা করে দর্শণার্থীদের ঠেকাতে তৎপর রয়েছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ।

গত বুধবার (৩১ মার্চ) থেকে দিনভর বদরপুর শাহ সোলেমান (রঃ) মাজার এলাকার চতুর্দিকের রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের অবস্থান ছিলো চোখে পড়ার মতো। এ অবস্থান চলবে আগামী ১ সপ্তাহ পর্যন্ত।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সকল দিক বিবেচনা করে শাহ সোলেমান (র.) এর ওরফ শরীফ করার অনুমতি দেননি। অতএব মাজার এলাকায় কোন বহিরাগত দর্শণার্থী প্রবেশ করতে পারবে না। সরকারের আদেশ মোতাবেক মতলব উত্তর থানা পুলিশ কাজ করছে। এ কাজে জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ৩০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতলব উত্তরের ইউএনও স্নেহাশীষ দাস সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। কোন ভাবেই মেলা উদযাপন করার সুযোগ নেই, পুলিশি তৎপরতায় আমরা মাজার এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি’।

সোলেমান লেংটার মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও ১৭ চৈত্র মেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে সবধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধে এবার লেংটার ওরশ মাহফিল বন্ধ করেছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, লেংটার মেলায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লেংটার ভক্তবৃন্দ এসে মেলায় যোগদান করেন। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত এ বছর মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোলেমান লেংটা উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান আউলিয়ার দাবিদার। বাংলা ১২৩০ সালে কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার গোবিনাদপুর ইউনিয়নের আলীপুর নামক গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা জন্ম গ্রহণ করেন। তার জীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন মতলবের বিভিন্ন অঞ্চলে। সোলেমান লেংটার বোনের বাড়ি বদরপুরে মাজারটি অবস্থিত।

১৩২৫ বাংলা সনের ১৭ চৈত্র শাহ্ সুফি সোলেমান লেংটা তার বোনের বাড়ি বদরপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে কবর দিয়ে মাজার স্থাপন করা হয়। এছাড়া প্রতি বছর ভাদ্র মাসে ও সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মাজারে ভক্তদের আগমণ ঘটে।

চৈত্র মাসের ১৭ তারিখের মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিদিন ৫-১০ লক্ষাধিক ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ জনগণ আসা-যাওয়া করেন। ওরসকে কেন্দ্র করে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মেলায় বসে রকমারি দোকান ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের আস্তানা।

৭ দিনের এ মেলায় আসা প্রতিটি দোকান থেকে দুই-দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। মাজারে মানত মানতে দেয়া হতো গরু, ছাগল, নগদ অর্থ, আগরবাতি ও মোমবাতি। প্রতিদিন উঠে কোটি টাকা।