• আজ বুধবার। গ্রীষ্মকাল, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১০:৫০মিঃ

সরকার মিডিয়া দখল করেছে, আমাদের আছে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক: মামুনুল হক

৮:০৬ অপরাহ্ন | শুক্রবার, এপ্রিল ২, ২০২১ দেশের খবর

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, মিডিয়ার শক্তি যদি পত্রপত্রিকা আর টেলিভিশনের পর্দা হয়, তবে তাদের কাছে আছে সোশ্যাল নেওয়ার্ক।

শুক্রবার (০২ এপ্রিল) বাদ জুম্মা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) রাজধানীর দুটি মাদ্রাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ শতাধিক ‘কোরবানির ছুরি’ জব্দের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, এই অস্ত্র উদ্ধারের নামে সরকার নাটক করছে। জনগণের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করে হেফাজতে ইসলামের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করছে সরকার। এ নাটক অনেক পুরনো, হেফাজতকে কলঙ্কিত করতেই সরকার এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে।

ক্ষুব্ধ মামুনুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এভাবে তাদের হেয় করে অভিযান চালিয়ে ছুরি জব্দ করা হলে আগামীতে আর বিনামূল্যে রাষ্ট্রের জন্য ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি থেকে বিরত থাকবে কাওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোরবানির ছুরি সংরক্ষণ হয়তো আর নাও করতে পারি। এই ছুরিগুলো দেশের কল্যাণে নিয়োজিত, এই ছুরিগুলো এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কোরবানির দায়িত্বে নিয়োজিত। বারবার এই ছুরি নিয়ে আপনারা (সরকার) নাটক করেন। কারা এই কাজ করল, জানতে চাই, মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

এরপরেই সংবাদমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিডিয়া অনেক শক্তিশালী আমরা জানি, মিডিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে তাও জানি। এ সময় সংবাদমাধ্যম নিয়ে মামুনুল বক্তব্য শুরু করলে হেফাজতকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ক্ষোভ প্রকাশের সময় মামুনুল হাতের ইশারায় নিভৃত করতে সচেষ্ট হন নেতাকর্মীদের। তাদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন, তারপরেই কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।

এরপরে আবারও বক্তব্য শুরু করেন মামুনুল। মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যতই প্রভাবশালী হন, যতই শক্তিশালী হন, পরিবেশ পরিস্থিতিকে যতই নিয়ন্ত্রণ করেন, মনে রাখবেন, আল্লাহর চেয়ে বেশি শক্তি আপনাদের নেই।

ইসলামের বিপক্ষে গণমাধ্যম অবস্থান করছে দাবি করে তিনি বলেন, আপনারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকার দলীয় এমপির বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট করতে পারেন না, শতবর্ষী বাংলাদেশের অহংকার জামিয়া ইউনুসিয়ায় যারা হামলা করল তাদের ব্যাপারে রিপোর্ট করতে পারেন না, যারা আমার মায়ের বুক খালি করল, যারা আমার ভাইদের হত্যা করল, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে পারেন না। আপনারা পারেন, হেফাজতে ইসলামের কল্পিত তাণ্ডবের কাহিনী রচনা করতে।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৩ সাল থেকে গণমাধ্যম চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলামকে মাইনাস করবার। হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে জাতির কাছে নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করছে এই মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, এ অপচেষ্টা করে কি হয়েছে, আপনারা যতই চেষ্টা করছেন, আপনাদের সব অপচেষ্টার জবাব দিচ্ছেন আমার আল্লাহ।

এসময় তিনি হুঙ্কার দিয়ে গণমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কাছে টেলিভিশনের পর্দা আছে, আমাদের কাছে সাড়ে তিন লাখ মসজিদের মেম্বার আছে। আপনাদের কাছে যদি জাতীয় পত্র-পত্রিকা থেকে থাকে আমাদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া আছে। জনগণকে আগের দিনের মতো বোকা ভাববেন না। এ সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করার আহ্বান জানান, এই হেফাজত নেতা।

গত ২৬ মার্চ হেফাজতের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আগুনের ঘটনার বিষয়ে তার দাবি, ‘হয়তো কেউ ভুল করে, আবেগের বশবর্তী হয়ে গ্রামের কেউ, পল্লী গাঁয়ের কেউ, না জেনে, না বুঝে, প্রেসক্লাবে অথবা দুই একজন সাংবাদিকের ওপর ভুল আচরণ করে থাকতে পারে।কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। কিন্তু গণমাধ্যমের কর্মীরা আমাদের সে কথা না শুনে আপনারা হেফাজতে ইসলামকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইসলামকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যদি হেফাজতে ইসলামকে বয়কট করেন এই জনগণ মিডিয়াকে বয়কট করবে।

তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান রেখে বলেনে, ‘আমরা চাই, মিডিয়া অতীতেও দেশ-জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, সরকারের সমালোচনা করেছে। সরকারের সমালোচনার মাধ্যমে সঠিক পথ দেখাবে গণমাধ্যম। সরকার যেন জনগণকে গুলি করে হত্যা করতে না পারে, তার বিরুদ্ধে আপনাদের গণমাধ্যমকে সোচ্চার হতে হবে। এভাবে যদি আপনারা থাকেন, তবে জনগণ মিডিয়ার পাশে থাকবে।