• আজ বুধবার। গ্রীষ্মকাল, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১০:৪৪মিঃ

মির্জাপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার: ৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি ‘অভিযুক্ত’ স্বামী রাজীব

১১:০৩ পূর্বাহ্ন | শনিবার, এপ্রিল ৩, ২০২১ ঢাকা
suma

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। কিন্তু নিহতের পরিবারের অভিযোগ তাকে তার স্বামী পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

গেল ২৯ মার্চ রাত ২টার দিকে মির্জাপুর পৌর সদরের ইউনিয়ন পাড়াস্থ ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটি গ্রামের কালীপদ বিশ্বাসের ছেলে দীপক বিশ্বাস রাজিব (৩২) এর স্ত্রী সুপ্রিয়া বিশ্বাস সুমা (২৫)। এ ঘটনার পর থেকে দীপক বিশ্বাস রাজিব গা ঢাকা দিয়েছেন।

শুক্রবার (০২ এপ্রিল) নিহতের বড় বোন কৃষ্ণা সরকার বলেন, আমার বোনের ভাড়াটিয়া বাসার আশপাশের লোকজনের কাছে শুনতে পেয়েছি আমার বোনের সাথে প্রায়ই তার স্বামীর সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো। বেশকিছু দিন পূর্বে পৌর সদরের মনসুর টাওয়ারে অবস্থিত রাজীবের নিজস্ব প্রাচী ডেন্টালে একটি নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় রাজীবকে জুতাপেটা করা হয়। পরে হাতজোড় করে তাকে মারের হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে আমার বোন। মূলত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের অবিরত ঝগড়া লেগেই থাকতো। এই ঘটনার জেরেই আমার বোনকে হত্যা করেছে রাজীব। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই, আমার আর কিছুই চাওয়ার নাই।

নিহতের বাবা অখিল চন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ৫ বছর পূর্বে বরাটি গ্রামের কালিপদ বিশ্বাসের ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের ৩ বছরের প্রাচী বিশ্বাস নামের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। গত সোমবার রাত ২টা ২৬ মিনিটে ছেলের বাবা কালীপদ বিশ্বাস তার বেয়াইকে ফোন করে জানান তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে নিহতের বাবা নায়ারণগঞ্জ থেকে ছুটে এসে মির্জাপুর থানায় গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পৌরসদরের ভাড়াটিয়া বাসায় যায় কিন্তু সেখানে মেয়েকে না পেয়ে রাজিবদের গ্রামের বাড়ির উঠানে মৃত অবস্থায় তার মেয়েকে পরাবস্থায় দেখতে পান।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সুমা যদি ওই বাসায় আত্মহত্যা করে তাহলে তার মরদেহ সেখানেই থাকবে। তার মরদেহ বরাটি আসলো কিভাবে বা কারা আনলো এ নিয়ে সন্দেহ জাগে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এ ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও রাজিবকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে রাজিবের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. নূরুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন পাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে কাউকে পাইনি। খোঁজ নিয়ে বরাটি গ্রামের কালিপদ বিশ্বাসের বাড়িতে নিহতের লাশ দেখতে পাই। প্রাথমিক অবস্থায় গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতাহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।