সংবাদ শিরোনাম

করোনায় মারা গেলেন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন মাসুক হাসানলকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সড়কে দীর্ঘ যানজট!৬ বছরের ছেলে সাহেলের প্রথম রোজা, আপ্লুত মাশরাফিকোরআন তেলাওয়াত, ইবাদতে প্রথম রোজা কেটেছে খালেদারভাঙ্গায় রাতের আঁধারে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর-লুটপাট : আহত-১৫বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তরুণীর সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধেমহাসড়ক যানশূন্য, শিমুলিয়ায় ফেরি পারাপার বন্ধ‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্র

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি সংসদে

১০:৫৩ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৪, ২০২১ জাতীয়
songsod

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িত হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনায় এসব কথা বলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম ।

এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত- হেফাজত- এরা ইসলাম ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। নামে হেফাজতে ইসলাম হলেও তারা ইসলামবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠী এবং দেশ ও জনগণের শত্রু। এদের কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।

দরকার হলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদের বিচার করতে হবে। ২০১৩ সালের ৫ই মে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার দ্রুত বিচার দাবি করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি যেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে না পারে- আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি।

বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর জন্য অনেক কিছু আমরা সহ্য করেছি। আর সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ সেলিম বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম ধ্বংস করে না। বরং সৃষ্টি করে। হেফাজতের নামে যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তাদের ক্ষমা নেই।

বাংলাদেশকে অস্বীকারকারীদের দেশে থাকার অধিকার নেই উল্লেখ করে ফজলুল করিম সেলিম বলেন, যারা বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের অর্জন ও স্বাধীনতার গৌরবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, হেফাজতের জঙ্গিরা যেসব মাদ্রাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে মানুষ হত্যা করে এবং বাড়িঘর ও স্থাপনায় আক্রমণ করে পুড়িয়ে দেয়। সেইসব মাদ্রাসাও বন্ধ করে দিতে হবে।

সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। তারা সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করতে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালিয়েছে।

২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে তারা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালায়। তারা থানায় আক্রমণ করেছে। পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা ১০ জন পুলিশকে বোমা মেরে আহত করেছে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার প্রতি যাদের বিন্দুমাত্র বিশ্বাস রয়েছে, তারা এই জঘন্য কাজ করতে পারে না। তাদের এই বাংলাদেশে থাকারও অধিকার নেই।

রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশের কথা উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে বিভিন্ন স্থানে বিনা কারণে কী তাণ্ডব তারা করেছিল। সেদিন খালেদা জিয়া বিএনপিকে হেফাজতের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বায়তুল মোকাররমে মসজিদে আক্রমণ করেছে। কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ করেছে।

সাম্পতিক সময়ের সহিংস ঘটনার ছবি দেখিয়ে শেখ সেলিম বলেন, এই জঙ্গিরা তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ার ওপর উঠে পেছনে শত শত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাণ্ডব চালিয়েছে। ছবি দেখে মনে হচ্ছে প্রাচীনকালের মতো কোনো যুদ্ধে যাচ্ছে। এটা পাকিস্তান নয়। সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে স্থান নেই। সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপি’র স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি বন্ধ করা প্রসঙ্গে শেখ সেলিম বলেন, কারা এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করে? যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তারা স্বাধীনতার কর্মসূচি বন্ধ করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত- হেফাজত এরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিএনপি ২৬শে মার্চ স্মৃতিসৌধেও যাইনি। কারণ তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বিএনপি’র সংসদ সদস্যদের বাপ-দাদারা একাত্তরে কোন দলে ছিল তা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ২০১৪ সালের ১৭ই জুন নরেন্দ্র মোদি নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া তাকে অভিনন্দন জানান। বিএনপি অফিসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এরপর ২০১৬ সালের ৬ই জুন নরেন্দ্র মোদি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। খালেদা জিয়া ৭ই জুন সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বিগলিত হাসি দিয়ে হ্যান্ডশেক করেন। এখন সেই মোদি খারাপ হয়ে গেল। এর ভেতর কী আছে, তা দেশবাসী জানতে চায়।

হেফাজতের তাণ্ডবের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন দলটির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

বিএনপিকে কেন জড়ানো হচ্ছে: হারুনুর রশীদ: পরে ফ্লোর নিয়ে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এই প্রসঙ্গে জানতে চাই, আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি থাকবে? পঞ্চাশ বছর পূর্তি, আমাদের সুবর্ণ জয়ন্তী। এই সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা লাশ উপহার দিলাম।

আমরা কি শান্তিপূর্ণভাবে সারা বাংলাদেশে কোথাও সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে পেরেছি? এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিএনপি’র এই সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী কোনো স্লোগান বা মোদির আগমন করা যাবে না- এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। যেহেতু ১৭ থেকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় সমস্ত কর্মসূচি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন, সেই কারণে আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে সীমিত আকারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি।

জিয়াউর রহমানের মাজারেও খুবই সীমিত আকারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। কারণ করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে আমাদের জায়গা থেকে কর্মসূচিগুলো সীমিত করে দেয়া হয়েছে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে হারুনুর রশীদ বলেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যারা করলো, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন। যখন ভাস্কর্য-মূর্তি নিয়ে দেশে একটি সংঘাত তৈরি হলো, তখন হেফাজতের সঙ্গে তো সরকার আলোচনা করেছে। এর আগেও তো সরকার হেফাজতের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সেই ক্ষেত্রে বিএনপিকে কেন জড়ানো হচ্ছে?