• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:১৮মিঃ

মামুনুলকে ‘হেনস্তা করায়’ মুন্সিগঞ্জে হেফাজতের বিক্ষোভ, পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর

১১:১২ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ৪, ২০২১ আলোচিত
police

সময়ের কণ্ঠস্বর, মুন্সিগঞ্জ- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক আটকের খবরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে হেফাজত সমর্থকরা। এতে সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। চরম ভোগান্তির শিকার হন এ পথে চলাচলকারীরা।

সড়ক অবরোধের পাশাপাশি জামালদি বাসস্ট্যান্ডে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি বক্স, কয়েকটি যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালায় হেফাজত সমর্থকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মামুনুল হককে আটকের খবরে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ২/৩ শ হেফাজত সমর্থক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় তারা জামালদি হাইওয়ে পুলিশ বক্স, কয়েকটি দোকান ও যানবাহন ভাঙচুর করে।

হেফাজত সমর্থকদের তাণ্ডবে মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় বাসস্ট্যান্ড। দোকানদারেরা যে যার মতো দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান। হেফাজতের অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ হেফাজত কর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ বক্স ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সালাহ উদ্দিন জানান, কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি। যে পুলিশ বক্সটিতে ভাঙচুর করা হয়েছে, সেটি পুরানো। তবে নতুন পুলিশ বক্সেও হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রইছ উদ্দিন জানান, হঠাৎ করে তারা হেফাজতের মিছিলের খবর পান। পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার আগেই হেফাজত কর্মীরা কয়েকটি দোকানপাট ও যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে বিকেলে সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন মামুনুল হক।

মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা রয়েল রিসোর্টের ফটকের বাইরে অবস্থান নেয়। ‘মামুনুল হকের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, এ ধরনের নানা স্লোগান দেন মামুনুল হকের অনুসারীরা। হেফাজত নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা রিসোর্টের দ্বিতীয় ফটক দিয়ে চলে যান।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে হেফাজত কর্মীরা স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক দিয়ে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা রির্সোটের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রিসোর্টের নিচ তলাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন। পরে পুলিশ মামুনুল হককে রিসোর্টের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে আসে।

ওই সময় হেফাজত কর্মীরা মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ‘ছিনিয়ে’ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে করতে স্থানীয় মোগরাপাড়া চৌরাস্তার পাশে হাবিবপুর ঈদগাহ ও মসজিদে নিয়ে যান। ঈদগাহে মাঠে মামুনুল হক হেফাজত কর্মীদের সামনে বক্তব্য দেন।

মামুনুল হক বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসেছিলাম। মানুষের ভিড় এড়াতে স্থানীয় কোনো নেতাকর্মীকে বিষয়টি অবগত করিনি। আমার সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে খারাপ আচরণ করেছে। সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের এটি একটি অংশ। এসব ষড়যন্ত্র করে কেউ আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না।’