• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

লকডাউন: চট্টগ্রামের সড়কে রিকসার দাপট, তিন প্রবেশপথে ম্যাজিস্ট্রেট

road
❏ সোমবার, এপ্রিল ৫, ২০২১ চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে সোমবার (৫ এপ্রিল) ভোর ছয়টা থেকে। চট্টগ্রামে ১ম দিন কাজের প্রয়োজনে সড়কে নেমে নগরবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন ভিন্ন চিত্র।

নগরের রাস্তায় গণপরিবহন কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গন্তব্যস্থলে রওনা হতে দেখা গেছে। জরুরি কাজের জন্য সীমিত পরিসরে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস খোলা হয়েছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থায় কর্মীদের অফিসে আনা-নেওয়ার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে।

এছাড়া নির্মাণকাজ চালু রাখায় শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে ও রিকশায় যেতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। অভ্যন্তরীণ পথে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরমুখী সড়কে নেই যাত্রীদের যাতায়াত। বহদ্দারহাট, দামপাড়া, কদমতলী, অলংকার বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে নেই টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রীবাহী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী।

এদিকে গণমাধ্যমের যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকছে। ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। কাঁচাবাজারে ক্রেতার সংখ্যাও তেমন নেই। উন্মুক্ত স্থানে বাজার সরিয়ে নেওয়া এখনও সম্ভব হয়নি। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বাজার খোলা রাখতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের ১১টি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল শুরু করেছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান জানান, নগরে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া নগরের তিনটি প্রবেশপথে বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন।

লকডাউনের বিরোধিতা করে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে রোববার নগরে শপিং মলের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করলেও তাতে সাড়া মিলেনি। ফলে বন্ধই রাখতে হচ্ছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুদি দোকানগুলোতে কেনা-বেচা চলছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে নেই মানুষের আনাগোনা।

খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় শুধু খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করা যাচ্ছে। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত অতি জরুরি কাজ (ওষুধ কেনা, নিত্যপণ্য কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকার ইত্যাদি) ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম চলছে সীমিতভাবে। এই সময়ে অন্যান্য নিম্ন আদালতের কার্যক্রম না চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। সকাল থেকে চকবাজার, পাথরঘাটা, আগ্রাবাদ বাদামতলীর মোড় এলাকায় কাজের সন্ধানে শ্রমিকরা জড়ো হন। কাজ না পেলে দিনের অন্ন সংস্থান কিভাবে হবে- তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, নগরের পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন, রাস্তার প্যাচওয়ার্ক চলমান থাকবে এবং চসিক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবাগুলো চালু রাখা হয়েছে। নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট, বিনামূল্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে কাউন্সিলরদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন