• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লকডাউনেও মানুষজন রাস্তায়, চলছে সব ধরণের যানবাহন

৬:১২ অপরাহ্ন | সোমবার, এপ্রিল ৫, ২০২১ চট্টগ্রাম
coxbazar

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি- সরকারের জারিকৃত লকডাউনের প্রথম দিনই কক্সবাজারের বিভিন্ন একালায় নির্দেশনা মানছে না জনসাধারণ। চলছে সিএনজি, বাসসহ সবধরণের গণপরিবহন। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। সিএনজি ও মিনিবাসে গাদাগাদি করে একসঙ্গে চলছে নারী-পুরুষ।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে শহরসহ সদর-রামুর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

নানা বিধিনিষেধ আরোপের মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার রোধের চেষ্টায় সাত দিনের ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে। সোমবার লকডাউনের প্রথম দিনে কক্সবাজার শহরে কিছু দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে।

তবে জরুরি পরিসেবায় নিয়োজিত সরকারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কক্সবাজার থেকে দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরে অধিকাংশ বড় মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে ওষুধের দোকান, মুদির দোকান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দোকান খোলা রয়েছে।

লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের চারটি টিম লকডাউন কার্যকর করতে এবং স্বাস্থ্য বিধি মানতে প্রচারণা চালিয়েছে।

দ্রব্যমুল্য স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়েছে। লকডাউনের প্রথমদিনে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে কক্সবাজারে শহরের প্রধান সড়ক, বড় বাজারসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: আমিন আল পারভেজ, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণ সহ অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে অবস্থানরতদের ঘরে ফিরে যেতে মাইকিং করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সতর্ক করে দেয়া হয়।

অপরদিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কসহ বিভিন্ন রোডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা পুলিশের নেতৃত্বে ট্রাফিক পুলিশ বাস টার্মিনাল, লিংক রোডসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপরতা চালিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, সংক্রমনের উর্ধ্বগতি কমাতে সাতদিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আমরা কাজ করছি। এখানে আমাদের চারটি টিম আছে। আমাদের পুলিশ বিভাগের সমস্ত কর্মকর্তা এখানে কাজ করছেন। আমরা নিজেরাও এটা মনিটরিং করছি।’

সচেতন মহলের অভিমত, সরকারের দেওয়া লকডাউন মানাতে প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না রাখলে জনসাধারণকে লকডাউন মানানো যাবেনা। এতে করে আগামীতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এধরণের ঢিলেঢালা লকডাউন দিয়ে লাভ হবেনা।

উল্লেখ্য, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে প্রায় এক বছর পর আবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণের পথে যেতে হলো সরকারকে।গত বছর সংক্রমণ কমাতে ঘোষণা করা হয়েছিল সাধারণ ছুটি, যেটির কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

মহামারীকালে দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণের হার কম থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ছন্দ ফিরতে শুরু করে। তবে সর্বক্ষেত্রে গতি পাওয়ার এ সময়টাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষায় ঢিলেঢালা হতেই মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের এ ধারা সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত শনিবার লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার।