বগুড়ায় ইউএনও’র নাম ভাঙিয়ে আ.লীগ-যুবলীগ নেতাদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

৫:৪৭ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ৬, ২০২১ রাজশাহী
vali

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতা বাঙ্গালী নদীর বিলচাপড়ী ঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। প্রায় এক মাস ধরে বালু উত্তোলনের ফলে সেতু, সেতু সংলগ্ন সড়ক ও বাজার এবং পার্শ্ববর্তী কলেজের অবকাঠামো ভাঙনের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার জন্য এলাকাবাসির পক্ষে নদীর তীরবর্তি বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কলেজের অধ্যক্ষর অভিযোগটি অদ্যাবধি আমলে নেননি ইউএনও।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাঙ্গালী নদীর বিলচাপড়ী ঘাট এলাকায় ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাশে গড়ে উঠেছে বাজার। সেই বাজারে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা। নদীর পশ্চিম তীরে বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজ। সেতুর উত্তর পাশে ২০০মিটার দূরে এবং কলেজের পূর্ব পাশে ৪টি খনন যন্ত্র দিয়ে অবাধে বালু তুলে মজুদ করা হচ্ছে।

এই বালু উত্তোলন করছেন কালেরপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রামনগর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য বিলচাপড়ি গ্রামের রবিউল ইসলাম উৎসব। তারা মোটা অংকের টাকায় বালু বিক্রি করছে। এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বর্তমানে নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। তাই ভাঙ্গনের কোন আলামত নেই। কিন্তু বর্ষাকালে যখন পানিতে নদী ভরে উঠবে তখন বালু উত্তোলনের বিরুপ প্রভাব দেখা দিবে। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবল স্রোতে নদী ভাঙ্গন শুরু হবে। তখন নদীর বুকে গভীর গর্তের সৃষ্টি হবে। ভাঙনের কবলে পড়ে পানির প্রবল স্রোতে সেতু ও সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে ধ্বসে পড়ার আশংকা রয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম উৎসব জানান, ইউএনও’র তত্বাবধানে এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মান কাজ চলছে। তাই ইউএনও’র চাহিদা অনুযায়ী ঘর নির্মানের জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলনের পর ট্রাকে করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, সরকারি ঘর নির্মানের জন্য তাদের নিকট থেকে বালু নেওয়ার কাজ এক সপ্তাহ আগে শেষ করে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তারপরও বালু উত্তোলন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।