🕓 সংবাদ শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় ৬ বছ‌রের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতারলাথি দেওয়া সেই শিক্ষক ছেলের আইনানুগ বিচার চান বাবামানিকগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেফতারহামলা ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ নাকি গাফিলতি, প্রশ্ন ইনুরগোপালগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও নসিমনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দামযুবলীগ চেয়ারম্যানের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি শেয়ার করায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারহিন্দু ভাই-বোনদের ভয় নাই, পাশি আছি: ওবায়দুল কাদেরসহিংসতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • আজ মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ১৯ অক্টোবর, ২০২১ ৷

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

mamunul
❏ বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবার আর আর ছাড় পাচ্ছেন না। বারবার সমালোচনায় আসা এ হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার (৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়াল রিসোর্টে মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীসহ অবরুদ্ধ থাকার বিষয়ে সরকার তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আপাতত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও হেফাজতের আগের সহিংসতার অভিযোগে চলমান মামলাগুলোকেই এখন সামনে আনা হবে। এছাড়া সম্প্রতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নাশকতা ও সংঘাতের ব্যাপারেও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জে এক নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত করা হচ্ছে। হেফাজত নেতারা মামুনুল হককে সমর্থন দিলেও আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তাতে তিনি অনেক জঘন্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ইসলাম ধর্মে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সহিংসতার ব্যাপারে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। তারা যে কর্মকাণ্ড করেছে, সেটা মোকাবিলা করতে হলে শত শত মানুষকে গুলির মুখে ফেলতে হতো। কিন্তু সেটা সরকার করেনি। সরকার ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। সারা জাতি দেখেছে এবং সারা পৃথিবীর মানুষ দেখেছে যে, ধর্মান্ধরা কী করতে পারে। এবার সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এ ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে আইন অনুযায়ী কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তারা কোনোক্রমেই রেহাই পাবে না।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে দেশে সহিংসতার ঘটনায় সারাদেশে মোট ২৫টি মামলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার জন্য হেফাজতকে দায়ী করা হলেও মামলাগুলোতে সংগঠনটির নেতাদের নাম দেওয়া হয়নি।

তবে গত ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সহিংসতার ঘটনায় ৫ এপ্রিল হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি করেন।

এসব অভিযোগেই সরকার এখন মামুনুল হক এবং হেফাজতের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কথা থেকেও সে ধারণা পাওয়া গেছে।

হেফাজতে অস্বস্তি

যদিও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্ব মামুনুল হককে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। কিন্তু সংগঠনটির নেতাদের অনেকের মাঝে অস্বস্তিও রয়েছে বলে জানা গেছে। রিসোর্টে নারী নিয়ে অবস্থানের ঘটনার ব্যাপারে মামুনুল হককে নিয়ে ঢাকায় হেফাজতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গত সোমবার বৈঠক করেছেন।

সংগঠনটির মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, “আমরা ভালভাবে তদন্ত করেছি। বৈঠকে সব সদস্যের সামনে তার (মামুনুল হক) বক্তব্য সে তুলে ধরেছে। আমাদের যা জিজ্ঞাসাবাদ করার তা করেছি, সেটা করার পর আমরা নিশ্চিত হইছি যে, তার বধে স্ত্রী। সেজন্য তাকে হেনস্থা করার ঘটনায় জড়িতদের আমরা বিচার চাইছি।”

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আব্দুর রব ইউসুফী বলেছেন, “আমরা বাহ্যিকভাবে শরিয়তের দৃষ্টিতে যা আমরা পেয়েছি, সে হিসাবে আমরা আমাদের বক্তব্য দিয়েছেযে উনি (মামুনুল হক) শরিয়তের লংঘন কিছু করেন নাই।” “সে জন্যই আমরা বলেছি যে, একজন লোক তার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটা আমাদের বিব্রত করেছে,” বলেন তিনি।

কিন্তু রিসোর্টে নারী নিয়ে অবস্থানের ঘটনাটি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং নানা আলোচনা হচ্ছে, এ নিয়ে হেফাজতে অনেকের অস্বস্তি থাকলেও বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে এর নেতাদের অনেকে বলেছেন।

হেফাজত নেতা মি: ইউসুফী বলেছেন, “বিষয়টাতো অত্যন্ত সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর)। এটা যে কোন মানুষ তার বিবেক-বিবেচনা থাকলে এখানে আপনার কিছুটা বিব্রত হওয়ার বিষয়তো আছে।”

“এ বিষয়গুলি এখনও আলোচনায় আসে নাই। দেশে লকডাউন চলছে এবং সেজন্য পারস্পরিকভাবে বসার মতো পরিবেশ এখন নাই। এগুলো হয়তো আলোচনায় আসবে,” বলেন মি: ইউসুফী।

এদিকে, হেফাজতে ইসলামের অন্য একাধিক নেতা বলেছেন, এ মুহুর্তে তারা তাদের সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চাইছেন। কোন প্রশ্ন থাকলে, তা নিয়ে তারা পরে আলোচনা করবেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন