🕓 সংবাদ শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় ৬ বছ‌রের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতারলাথি দেওয়া সেই শিক্ষক ছেলের আইনানুগ বিচার চান বাবামানিকগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেফতারহামলা ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ নাকি গাফিলতি, প্রশ্ন ইনুরগোপালগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও নসিমনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দামযুবলীগ চেয়ারম্যানের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি শেয়ার করায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারহিন্দু ভাই-বোনদের ভয় নাই, পাশি আছি: ওবায়দুল কাদেরসহিংসতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • আজ মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ১৯ অক্টোবর, ২০২১ ৷

অশ্লীল ভিডিওসহ মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি মিললো ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে!

অশ্লীল ভিডিও
❏ বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০২১ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে আটক ‘শিশুবক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বেশ কিছু দেশি ও বিদেশি অশ্লীল ভিডিও/পর্নো ভিডিও সহ ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্নজনকে পাঠানো কিছু আপত্তিকর ছবি পেয়েছে র‍্যাব।

বুধবার (০৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে র‍্যাব ‘শিশুবক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোনা থেকে আটক করে বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক ইমরান খান।

এদিকে, বিকেলে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর রফিকুল ইসলাম মাদানীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। সেসময় তল্লাশি করা হয় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও।

র‍্যাবের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, রফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তার ফোনে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে। তার মোবাইল ফোনের ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্নজনকে পাঠানো আপত্তিকর ছবিও পাওয়া গেছে।

আরও  পড়ুনঃ

যে কারণে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল মাদানীকে আটক করা হয়েছে

এছাড়া আসমা বেগম নামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন বলে যে দাবি করেছেন তা নিয়েও নানা তথ্য পাওয়া গেছে। ওই নারীর সঙ্গে রফিকুলের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়নি। বিয়ে নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাবের ঐ সুত্র।

সুত্র জানায়, ২০১৯ সালে নিজের ভাবির এক চাচাতো বোনকে মুখে মুখে কবুল বলে বিয়ে করেছিলেন ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম। বিয়ের কথা জানত না দুইপক্ষের পরিবারের কেউ। সে বিয়ের কাবিন বা সাক্ষী সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামকে আটকের পরপরই তার মোবাইল ফোন চেক করে দেখে র‍্যাব। এ সময় তার মোবাইলে একাধিক পর্নো ভিডিও পাওয়া যায়। কিছু বিদেশি পর্নো ভিডিও পাওয়া যায় যা ডাউনলোড করা এবং তার মোবাইলের ব্রাউজার হিস্টোরি চেক করে দেখা যায় নিয়মিত তিনি ভিপিএন ব্যবহার করে সার্চ করে পর্নো দেখতেন।

‘শিশুবক্তা’ রফিকুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সুত্রটি জানান, ২০১৯ সালে নিজের ভাবির এক চাচাতো বোনকে মুখে মুখে কবুল করে বিয়ে করেন তিনি। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) তার পরিবারের লোকজন বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে ওই মেয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে রফিকুলের পরিবারের লোকজনের মেয়ে দেখে পছন্দ না হওয়ায় বিয়েতে দ্বিমত দের তারা। এরপর ওই মেয়ের মেসেঞ্জারে রফিকুল লেখেন, ‘প্রয়োজনে ১০ বছর হলেও অপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করবো।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, রফিকুল ইসলামরা পাঁচ ভাই। তিনি সবার ছোট। তার বাবার নাম মৃত শাহাবুদ্দিন। রফিকুল নেত্রকোনার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানীয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। খর্বাকৃতির শারীরিক গঠন হলেও তার বয়স প্রায় ২৬-২৭ বছর। খর্বাকৃতির কারণে রফিকুল ইসলাম ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক তার মুক্তির দাবি জানিয়ে ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী র‍্যাব এর নিরাপত্তায় আছে মর্মে নিশ্চিত হয়েছি। অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি!

অন্যদিকে রফিকুল ইসলামকে আটকের পর তার মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক।

প্রসঙ্গত, এর আগে, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছিলেন ‘শিশুবক্তা’ খ্যাত মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

মুক্তির পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি তখন বলেন, ‘আমি শুধু আপনাদের সমানে এসেছি একটা বিষয় জানানো জন্য যে, আমি এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। পল্টন থানায় কিছুক্ষণ ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাউকে দেখানোর জন্য সেখানে (মতিঝিলে) যায়নি। আমি ইসলামী মূল্যবোধ থেকে…। যে মোদি বাংলাদেশে আসবে, তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে, লাল গোলাপের শুভেচ্ছা দেওয়া হবে, সেটা দেখতে একজন মুসলমান হিসেবে খারাপ লাগবে।’

উল্লেখ্য, রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায়, থাকেন গাজীপুরে। তিনি নেত্রকোণার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক। রফিকুল ইসলাম রাজধানীর বারিধারায় মাদানী এভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন। এছাড়া তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গ সংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহ-সভাপতি।

এদিকে রফিকুল ইসলামের বয়স নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে এক ওয়াজ মাহফিলে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছি। এখনো আমাকে শিশুবক্তা বানিয়ে রাখবেন কেন? আল্লাহ তাআলা আমাকে বানাইছে। দেখতে এমন লাগে।

আরও  পড়ুনঃ

স্ত্রীর অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি; যুবলীগ নেতার নামে মামলা

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন