• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী: মামুনুল হক

৬:১১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৮, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
mamunul

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের আইনেও একাধিক বিয়েতে বাধা নেই। কাজেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী?

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে গত শনিবার এক নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।

এসময় তিনি আরও বলেন, যদি আমি স্ত্রীদের কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকি, তবে আমার বিরুদ্ধে আমার পরিবার অভিযোগ দিতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি দেখাতে পারবে যে আমার পরিবার কোনো বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিয়েছে? আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমি কি কথা বলবো না বলবো সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

মামুনুল হক বলেন, আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করে আমার ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এটি যেমন দেশের আইনেও অপরাধ তেমনি ইসলামী বিধানেও চরম গুনাহের কাজ। সুতরাং আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ যারা ফাঁস করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা নেবো।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে একেরপর এক মানুষের ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করা হচ্ছে, এটি দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। মাওলানা রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে তার নামেও অপবাদ দেয়া হয়েছে।

এই যে এতোগুলো ফোনালাপ ফাঁস করা হল তাতে কি প্রমান মিলেছে যে সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী নয়? অথচ শুধু শুধু আমার একান্ত ব্যক্তিগত কথাগুলো কোন উদ্দেশ্যে ফাঁস করা হল?

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমি সেদিন নারায়নগঞ্জের রয়াল রিসোর্টে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে যে আমি কেন এই পরিস্তিতিতে রিসোর্টে গেলাম। হ্যা, আমি স্বীকার করছি যে এমন অসাবধানতাবশত সেখানে আমার যাওয়া সমীচিন হয়নি। তবে আমি জানতাম না যে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চরমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।

মামুনুল হক বলেন, ‘আমার চরিত্র হরণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যে বিষয়ে আমার চরিত্র হননের চেষ্টা চললে, সেই বিষয়ে আমি নিরাপদ। এ ধরনের চারিত্রিক কালিমা আমার ওপর নেই। এই বিষয়ে আমি এতোটাই নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসী, মুবাহালা করার মতো সৎ সাহস আমি রেখেছি। যারা আল্লাহর কোরআন জ্ঞান রাখেন তারা জানেন মুবাহালার বিষয়টি কেমন। কোরআনের আলোকে কোন একটি বিষয় যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে অমীমাংসিত হয়ে যায়, আর কোনও মীমাংসার সুযোগ না থাকে, তখন কোরআন বর্ণিত সর্বশেষ সমাধানের পথই হলো মুবাহালার।

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি, আমার মধ্যে কতটা ঈমানী ও নৈতিক দৃঢ়তা থাকলে এই কথা বললাম, যদি আমি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকি, সেই নারী সঙ্গে আমার দুই বছর আগের বিবাহবন্ধন শরীয়ত সম্মত-ভাবে সম্পাদিত না হয়ে থাকে, জান্নাত আরা ঝরনা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী, এ বিষয়ে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকি তাহলে আমার ওপর আল্লাহর গজব নাযিল হোক। আর যারা আমার এ কথাকে অস্বীকার করতে চায়, কেউ যদি ঈমানদার মুসলিম হয়ে থাকে তাহলে তাকে আমার পক্ষ থেকে উদার আমন্ত্রণ থাকলো আপনিও এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। আপনিও এ কথা বলুন, আপনি যদি আমার ওপর মিথ্যা অপবাদ দানকারী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ওপর আল্লাহর গজব নাযিল হবে। দেখি বাংলাদেশে এমন সৎ সাহস কোনো মায়ের সন্তান রাখেন কিনা।’

চরিত্র হনন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে দাবি করে মামুনুল হক বলেন, এটা আমার নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। শুধু ব্যক্তিগত আলাপচারিতার কল রেকর্ড ফাঁস নয়। বরং এর চেয়েও আরও ভয়াবহ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে। সেটি হলো জান্নাত আরা ঝরনার প্রথম ঘরের সন্তান আব্দুর রহমানকে তুলে নিয়ে তাকে দিয়ে জোর করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। স্ক্রিপ্ট লিখে দিয়ে সেই অনুযায়ী বক্তব্য পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আপনার চিন্তা করতে পারেন যে একজন ব্যক্তির চরিত্র হনন করার জন্য কতটা মরিয়া হয়ে উঠলে এ ধরনের অশুভ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।’

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা জনগণের সেবক। রাষ্ট্রের সেবক। কোনো ব্যক্তি বা দলের সেবাদাস নয়। কাজেই পেশাগত দায়িত্ব আমানতের সঙ্গে পালন করবেন। কারও চাপের কাছে নত হয়ে তার ব্যক্তি অধিকার হরণ করেন তার জন্য হাশরের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইসলামকে রক্ষা করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশবিরোধী যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।’