মির্জাপুরে ‘খাল ভরাট করে’ ইটভাটার জন্য রাস্তা নির্মাণ ইউপি সদস্যের!

road
❏ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০২১ ঢাকা

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- সরকারি উমেদ আলী নামক খাল ভরাট করে ইটভাটার জন্য রাস্তা নির্মাণ ও সামাজিক রাস্তা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কথা বলতেও পারছেন না। এতে প্রতিনিয়তই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ওই এলাকার সাধারণ জনগণের।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি খালের উপর বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে বেআইনিভাবে জবর দখল করে প্রভাব খাটিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা গ্রামের ০৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল হোসেন তার নিজস্ব এনএসবি ইটভাটার কাজ করছেন।

একসময় উমেদ আলী খাল এই এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি উৎস ছিলো। কেননা এই খাল থেকে জেলেসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকেই। খালের পানি ব্যবহার করে হতো নানা ধরণের কাজ। কিন্তু খালটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি চলাচলে ব্যাহত হওয়ায় খালটি প্রায় মরার পথে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বর্তমানে খালের উপর দেয়া বাঁধটি ওই মেম্বার কাটতেও দিচ্ছেন না।

এদিকে ওই এলাকার জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে গেলো কয়েক বছর পূর্বে প্রয়াত ওয়াজেদ আলী চেয়ারম্যান খালের পাশ দিয়ে মাটি ফেলে একটি রাস্তা নির্মাণ করেন, কিন্তু আবুল মেম্বার ওই রাস্তার মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নিয়ে গেলে রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং খাল থেকে প্রায় ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে মাটি কেটে নিজ ইটভাটার কাজে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালটি সরকার পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। কিন্তু খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির যোগসাজসে এখন পর্যন্ত বাঁধটি না সরানোয় পুনরুদ্ধার কাজ আটকে গেছে। খাল পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ম্যানেজ করে মেম্বার বাঁধটি নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন অনেকেই।

উমেদ আলী খাল পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাকে বাঁধা দিলেও সে মানেনি। কিন্তু বাঁধ দেয়ার বিষয়টি প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে জানাননি এই কমিটির কেউ।

এদিকে খালের পাশেই তার ইটভাটার কয়লা ভাঙানোর মেশিন বসানো হয়েছে। কয়লার বিশাক্ত ধোঁয়ায় পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের যেমন দেহের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে তেমনিভাবে পরিবেশও পড়েছে হুমকির মুখে। এলাকার সাধারণ জনগণের দাবি যাতে অতিদ্রুত বাঁধটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং খালের পুনরুদ্ধার কাজ সঠিকভাবে চলে। এতে ওই এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক সিকদারের পরামর্শেই খালের উপর দিয়ে বাঁধ দিয়েছি। তবে তিনি খাল ও পূর্বের সামাজিক রাস্তা থেকে মাটি কেটে নেননি বলে অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শক করে যদি কোন ব্যক্তি খালের উপর রাস্তা নির্মাণ করে থাকে তাহলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।