মাদারীপুরে ভুয়া মেজর ও মেরিন অফিসারসহ ৪ প্রতারক আটক

❏ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০২১ ঢাকা
atok

মেহেদী হাসান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর- ভুয়া সেনাবাহিনীর মেজর ও মেরিন অফিসার পরিচয় দানকারী নারীসহ ৪ প্রতারককে আটক করেছে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (১০ এপ্রিল) দুপুুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুরের ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের হালিম মাদবরের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন খুলনা পাইকগাছার রবিউল ইসলামের ছেলে মাসুদ পারভেজ (২৯), বরগুনার আবদুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে শাহীন (৩২) ও শাহিনের স্ত্রী শিরিন বেগম (২৬)। এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাইউম।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে যানা যায়, তিন প্রতারক সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের হালিম মাদবরের ছেলে রনি হোসাইনকে চাকরি দেয়ার কথা বলে তাদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজ নিজেকে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (এস এস এফ) হিসেবে পরিচয় দেয় ও অভিযুক্ত শাহিন নিজেকে পরিচয় দেন মেরিন অফিসার হিসেবে এবং সম্পর্ক একটু গভীর হলে ভুয়া মেরিন অফিসারের স্ত্রীকে নিয়ে হালিম মাতুব্বরের বাড়িতে বেড়াতে আসে এবং প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করে বিভিন্ন অজুহাতে ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

এতে হালিম মাদবরের সন্দেহ হলে শনিবারে সকালে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নিয়ে আসে এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের তারা তাদের প্রতারণার কথা স্বীকার করে। এবং তাদের কাছ থেকে ভূয়া আইডি কার্ড ও বেশ কিছু ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয় বলে জানায় পুলিশ জানায়। এবং তাদের তিনজনকেই পুলিশ আটক দেখিয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভুয়া সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (এস এস এফ) মাসুদ পারভেজ জানান, আমাদের সাথে একটু সু-সম্পর্ক হয় এই কারণে তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি এছাড়া আর কিছু না। আর আমরা এর কোন পরিচয় দেই নাই।

ভুয়া মেরিন অফিসার শাহিনের স্ত্রী শিরিন বেগম জানান, আমি আমার স্বামীর সাথে বেড়াতে এসেছি এর বেশী কিছু না।

প্রতারণার স্বীকার রনি হোসাইন জানায়, আমার মামা আব্দুল কায়েম বনফুল পরিবহনের ড্রাইভার সেই সুবাদে মামার সাথে পরিচয় হয় মাসুদ পারভেজের। তিনি নিজেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (এস এস এফ) হিসেবে পরিচয় দেয়। একসময় আমার মামার সাথে মাসুদ পারভেজ এর ঘনিষ্ঠতা হয়। এবং আমাকে এনএসআই তে চাকুরির ব্যবস্থা করে দিবে বলে আমাদের বাড়ীতে বেড়াতে আসে এবং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিতে থাকে। তাদের বিভিন্ন আচরণ সন্দেহ হলে আমরা পুলিশকে খবর দেয় হয়। পরবর্তীতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক তাদের করে সদর থানায় নিয়ে আসে। আমি এই তিন ভুয়া ও প্রতারকের বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার এএসআই মো. আনিচ হোসেন বলেন, আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। এবং এই ব্যাপারে মামলা হবে এবং তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।