🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৬ অক্টোবর, ২০২১ ৷

পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রীর হাতে প্রহার, ‘ধামাচাপা দিতে’ স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা!

Coxbazar
❏ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: পরকীয়ার ঘটনায় বারবার ফেঁসে যাচ্ছিলেন কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজারপাড়া এলাকার যুবতী তসলিমা (২৮)। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে নিজ শ্বশুর বাড়িতে থাকা অবস্থায় পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রীর হাতে বেদড়ক পিটুনির শিকার হন ওই যুবতী।

কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার পর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটতে চেষ্টা করছেন তসলিমা। এমনকি নিজের পরকীয়ার বিষয়টি ঢাকতে ঘটনায় জড়িতদের আড়াল করে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের পাঁচ নিরীহ সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার ওই পাঁচজন হলেন- খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফয়সাল (৩২), কলেজ ছাত্র মো. সাঈদ (১৭), আয়েশা ছিদ্দিকা (৩৮), খরুলিয়া তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষিকা শাহিদা ইয়াসমিন রুমি (২৯) এবং মরিয়ম (৫০)।

তবে রহস্যজনক বিষয় হলো- ঘটনায় জড়িত হামলাকারী প্রেমিকের স্ত্রী ও তার দলবলকে উক্ত মামলায় আসামি করা হয়নি। আসামি করা হয়েছে নিকটাত্মীয়দের। কেন এমনটি করলেন যুবতী, তার কোনো সদোত্তর খুঁজে পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা কেউই। প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে কি পরকীয়া ঢাকতেই স্বজনদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা?

অভিযুক্ত যুবতী তসলিমা (২৮) ঝিলংজার খরুলিয়া এলাকার মৃত আমান উল্লাহর স্ত্রী। তিনি এখন বিধবা অবস্থায় আছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার (গত ৬ এপ্রিল) একটি ভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তসলিমা তার ওই ৫ আত্মীয় স্বজনকে হয়রানিমূলকভাবে নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। এর দুই দিন পর ৯ এপ্রিল (শুক্রবার) এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে কর্তৃপক্ষ।

অথচ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, দোকানদার ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন- সেদিন মারধরের ঘটনাটি ছিল তসলিমার পরকীয়া সংক্রান্ত। তার প্রেমিকের স্ত্রী স্বদলবলে এসে ঘরে ঢুকে মারধর করে চলে যায়। এরপরে তাদেরকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।

স্থানীয় দোকানদার রহিম জানান, ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে একটি অটোতে চড়ে ৪/৫ জন মেয়েকে নামতে দেখেছেন। তাদের মুখ নেকাবে বাঁধা ছিলো। এদের কাউকেই আগে এখানে দেখেছেন বলে মনে করতে পারছেন না তিনি। এরাই তসলিমার ঘরে ঢুকে মারধর করে ১৫/২০ মিনিট পর দ্রুত চলে যায়।

একই কথা বললেন স্থানীয় অপর দুই দোকানদার রফিক ও আলমগীর।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তসলিমার স্বামী আমান উল্লাহ প্রবাসে থাকা অবস্থায় মারা যায়। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তসলিমা পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী কামালের সাথে। এরমধ্যে স্বামী মারা গেলে তার অনুপস্থিতির কারণে তসলিমার এই পরকীয়ার বিষয়টি আরও বেশি প্রকাশ্যে আসতে থাকে। এমনকি এলাকায় একাধিকবার সালিসি বৈঠকও হয়েছিল বলে জানিয়েছে সমাজের সর্দার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু শত চেষ্টা করেও কিছুতেই তসলিমার পরকীয়ার সম্পর্কটি ছিন্ন করা যায়নি। ফলে দুই পরিবারের মাঝে চরম অসন্তোষ ও অশান্তি বিরাজ করছিল।

এর জের ধরে গত ৬ এপ্রিল তসলিমার প্রেমিক কামালের স্ত্রী আনিফা ওই হামলা চালায়। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে এমন ঘটনায় ফেঁসে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে মরিয়া তসলিমা ঘটান আরেক কান্ড। পরকীয়া সম্পৃক্ততা ধামাচাপা দিতে ওই হামলার দায় চাপান স্বজনদের উপর। এবং সে অনুযায়ী স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষান্ত হয় তসলিমা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তসলিমার সাথে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে কামাল তার স্ত্রী আনিফা সুলতানাকে দু’মাস আগে বাড়ি থেকে মারধর করে বের করে দেন। পরে সেই ক্ষোভ থেকে তসলিমাকে প্রহার করেন তিনি।

কামালের স্ত্রী আনিফা মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, তসলিমাকে এই অবৈধ সম্পর্ক ছেড়ে দিতে বলা হলেও সে কোনো কথা গায়ে মাখছিল না। বারবার অগ্রাহ্য করে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছিলো। এ কারণে শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তিনি তসলিমাকে নিভৃত করতে যান বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত তসলিমার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার সন্তানের উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে এই হামলা চালিয়েছে। তার কোনো পরকীয়া প্রেমিক নেই।

তসলিমার পরকীয়ার সম্পর্কে বেশ কিছু প্রমাণ সামনে এনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

পাশে থাকা তার ভাই উত্তেজিত হয়ে বলেন, ওই মেয়ের স্বামীকে যদি তার বোন ভাগিয়ে নিয়ে থাকে তাহলে ওই মেয়েকে সে লালন পালন করবে। এর বাইরে কোনো সমাধান নাই বলেও প্রতিবেদককে হুমকি দেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীরুল গীয়াসের সাথে। তিনি বলেন, ঘটনা যেহেতু ঘটেছে সে হিসেবে স্বাভাবিক নিয়মে মামলা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। তদন্ত করে শুধুমাত্র ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবং তিনি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও অবগত আছেন বলে প্রতিবেদককে জানান।