• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

বিধিনিষেধহীন ১২-১৩ এপ্রিল নিয়ে কী ভাবছে সরকার?

new market
❏ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ চলছে। ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। শেষ হবে ১১ এপ্রিল মধ্যরাত। এরই মধ্যে গতকাল সরকারের দুই মন্ত্রী ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে চলমান বিধিনিষেধ ও সম্ভাব্য লকডাউন শুরুর মাঝের দুদিন, অর্থাৎ ১২ ও ১৩ এপ্রিল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই দুই দিন ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। নতুন লকডাউনের আগে এই দুদিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি ও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।

সে ক্ষেত্রে সরকার মানুষের বাড়ি যাওয়া ঠেকাতে গণপরিবহন বন্ধ রাখবে; নাকি ১৪ জানুয়ারির লকডাউন কার্যকর করতে এবং প্রয়োজনে আরও বাড়াতে এসব মানুষকে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ করে দেবে? এমনকি মাঝখানের দুই দিনের সংক্রমণঝুঁকি কমাতে চলমান বিধিনিষেধকেই সর্বাত্মক লকডাউনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেবে? এমন নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

এ দুদিন কেমন হবে, তা জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ১৪ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে, যেটি হচ্ছে ‘কমপ্লিট’ লকডাউন। তবে ১২ ও ১৩ এপ্রিলের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, যেহেতু আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, তাই যে অবস্থা এখন চলছে, এর চাইতে বেশি ওপেন করা মনে হয় এখন সঙ্গত হবে না। এ দুদিনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত আসতে কালকের দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

দুদিন আন্তঃজেলা বাস চলাচলের বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃজেলা বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা সম্ভবত নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জীবন বাঁচাতে আমাদেরকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেতুমন্ত্রীও বলেছেন যে, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়তো আমাদের শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই মানুষের কাছে মেসেজ, সতর্ক থাকতে হবে, বাইরে আসা যাবে না। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লকডাউন।

তবে এই দুদিন ঘরমুখো মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এসব লোকজন সংক্রমণ বাড়াবে এবং তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে সংক্রমণ দেখা দেবে।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। মৃত্যুর দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে আজ। এদিন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে পাঁচ হাজার ৩৪৩ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।