রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

mita 7
❏ রবিবার, এপ্রিল ১১, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার (১১ এপ্রিল) পৃথক শোক বার্তায় এই শোক প্রকাশ করেন তাঁরা।

রাষ্ট্রপতি তাঁর শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশে রবীন্দ্র চর্চা এবং রবীন্দ্রসংগীতকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিতা হকের প্রচেষ্টা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি মিতা হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোক বার্তায় মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মিতা হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শোকবার্তায় তিনি জানান, মিতা হক তার গানের মধ্য দিয়ে এ দেশের রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

উল্লেখ্য, আজ রবিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত জটিলতায় রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মিতা হক।

একুশে পদকজয়ী এই শিল্পী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন; চারদিন আগে করোনাভাইরাস রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর হাসপাতাল থেকে তাকে বাসায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তার জামাতা মোস্তাফিজ শাহীন।

তিনি বলেন, “কাল দুপুরে উনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আরও অবনতি ঘটলে রাতে আইসিইউতে ভেল্টিনেশনে রাখা হয়েছিল। সকালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।”

জানা গেছে, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ মিতা হকের মরদেহ ছায়ানট ভবনে নেয়া হবে। সেখান থেকে নেয়া হবে কেরানীগঞ্জ। বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হককে।

মিতা হকের জন্ম ১৯৬২ সালে। সংগীত শিক্ষা শুরু চাচা ওয়াহিদুল হকের কাছে। পরে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খান ও সনজীদা খাতুনের কাছে গান শেখেন। ১৯৭৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সংগীত পরিবেশনা শুরু করেন তিনি।

মিতা হকের এককভাবে মুক্তি পাওয়া অ্যালবামের সংখ্যা ২৪টি। এর মধ্যে ১৪টি ভারত থেকে ও ১০টি বাংলাদেশ থেকে। সুরতীর্থ নামে একটি সংগীত প্রশিক্ষণ দল পরিচালনা করতেন তিনি। এ ছাড়া তিনি ছায়ানটের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন মিতা হক। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

মিতা হকের স্বামী অভিনেতা-পরিচালক খালেদ খান ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই দম্পতির একমাত্র কন্যাসন্তান ফারহিন খান জয়িতা।