সংসারের অভাব ঘোচাতে ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরেছে শিশু শহিদ!

sohid
❏ সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: নয় বছরের শিশু শিক্ষার্থী শহিদ (৯) ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরে সংসারের হাল ধরেছে। তার পরিবারে পাঁচ জন সদস্য রয়েছে। তার বড় ভাই হৃদয় বিশ্বাস (১২) সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর জান্নাতুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করে।

তার বোনের বয়স ৭ মাস। যে বয়সে শহিদের পড়ালেখার পাঁশাপাশি খেলাধুলা ও আনন্দ-উল্লাস করে সময় কাটানোর কথা।  অভাব ঘোচাতে শহিদ ব্যাটারি চালিত ভ্যান চালিয়ে তার পিতার সাথে সংসারেরর হাল ধরা লাগছে।

শহিদ বিশ্বাস পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে। কোনো সময় শহিদকে পৌরসভার ওয়াবদার মোড়, চাটাইপট্টি, গুনবহার তালতলা বাজার আবার কোনো সময় চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার চৌরাস্তা লোকাল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী নামাতে দেখা গেছে তাকে। এ সময় সহিদ বিশ্বাসের সাথে কথা ব ললে সে জানায়, বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ হওয়ায় শহিদ প্রতিদিন এক বেলা ভ্যান চালায়। তার পিতা এক বেলা আর সে এক বেলা ভ্যান চালায়। তার পিতা (বাবুর্চি) কাজও করেন। তার পিতা যেদিন রান্নার কাজে যান, সেদিন সারাদিন তাকে ভ্যান চালাতে হয়। এই বয়সে সংসার চালাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত ব্যাটারি চালিত ভ্যান চালাতে হয় তাকে। প্রাণঘাতি করোনার কারণে তেমন ভাড়া হয় না। যা আয় হয় তা দিয়ে কনো মতে তাদের সংসার চলে বলে জানায।

সহিদ বিশ্বাসের পিতা আবুল হোসেন বলেন, সরকারি ওয়াবদার জায়গায় কোন মত একটি ছাপড়া উঠিয়ে স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। আগে রান্নার কাজ করে কোনমত সংসার চালাতাম। কিন্তু করোনা ভাইসের কারনে বড় কোন অনুষ্ঠান না হওয়ায় রান্নার কাজও নেই। বড় ছেলে হৃদয়কে (১২) হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়ালেখা করাচ্ছি। যার কারণে সংসারে সে কোন সহযোগিতা করতে পারে না। এজন্য ছোট ছেলে ভ্যান চালিয়ে আমার সাথে সংসারের সহযোগিতা করে। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায়দের জমি ও ঘর দিচ্ছেন। কেউ যদি একখানা ঘর দিয়ে সহযোগিতা করতো আমাদের মাথা গুজার ঠাঁই হতো।

পৌরসভার নবনির্বাচিত পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপন মিয়া বলেন, শহিদ বিশ্বাসের পরিবারের কথা শুনেছি। শহিদকে পড়ালেখা করাতে যা সহযোগিতা করার আমি করবো। তার পরিবারে যদি কোন ঘর বা জায়গা না থাকে তাহলে আবুল হোসেনের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে ঘরের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।