ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল!

❏ সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১ আলোচিত
lig

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজশাহীর তানোরে দিনে-দুপুরে প্যান্ট চুরে করে ভাইরাল হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে জুয়েল রানা।

১০ এপ্রিল (শনিবার) তানোর পৌর এলাকার প্রদীপ সুপার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা তানোর উপজেলার চাপড়া এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, দুজন ক্রেতা দোকান থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা দোকানের সামনে এসে বাইরে টাঙানো একটি জিন্স প্যান্ট নামান। পরে সেই প্যান্ট নিয়ে সোজা মার্কেট থেকে বেরিয়ে যান।

ঘটনাস্থল প্রদীপ সুপার মার্কেটের স্টাইল কালেকশনের মালিক প্রসেনজিত কুমার জানান, দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিনি দোকানের বাইরে ছিলেন। এ সময় দোকানে ছিলেন তার ছোট ভাই। তিনি এসে বাইরে ঝোলানো দুটি প্যান্টের একটি পাননি। তার ভাইও বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। অনেক খুঁজে সন্ধান না পেয়ে পরদিন পাশের দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। সেখানেই ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।

পরে তিনি নিজেই কথা বলেন ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানার সঙ্গে। প্রথমে তিনি চুরির ঘটনা অস্বীকার করেন। বিষয়টি বাজার বণিক সমিতির নেতাদের জানালে ওই দিন দুপুরে গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক পাপুল সরকারের চেম্বারে সালিস বসে। সেখানে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন জুয়েল রানা। পরে তার কাছ থেকে প্যান্টের দাম ৩২০ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন নেতারা।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা বলেন, ‘আমি প্যান্টটা চুরি করিনি। মজা করেছি। সন্ধ্যায় মজা করে পরের দিন সকালে ওই প্যান্ট পরে এসে টাকা দিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, একজন অপরিচিত মানুষ আমাকে মার্কেটের পেছনে পানের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর থেকে আমি আর কথা বলতে পারিনি। নেশা নেশা লাগছিল। বিষয়টি অনেকেই জেনে যাবে, তাই কথা না বলে প্যান্টটা নিয়ে যাই।’

আপনাকে সিসিটিভির ফুটেজে আর ১০টা মানুষের মতোই স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে দেখা গেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

জানতে চাইলে গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সারওয়ারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে কোনো ব্যবসায়ী বা বাজার কমিটি কোনো অভিযোগ করলে আলোচনা সাপেক্ষে জুয়েলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’