• আজ মঙ্গলবার, ২৮ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১১ মে, ২০২১ ৷

‘ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন ​মমতাজ!

❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১ আলোচিত
momotaz

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ নতুন কোনো ঘটনা নয়। সোমবার বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে এ ধরনের ডিগ্রি প্রদানের খবর পাওয়া যায়। খবরটি তিনি নিজের ফেইসবুক পেজেও শেয়ার করেন।

সেখান থেকে জানা যায়, ভারতের গ্লোবাল হিউম্যান পিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন ‘রিটার্ন টিকিট’-খ্যাত গায়িকা।

কিন্তু দিন গড়াতেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ধরনের প্রশ্ন ওঠে। এরপর সংবাদ পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সাইট বিডি ফ্যাক্টচেক বিভিন্ন সূত্র পরীক্ষা করে জানায়, ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন মমতাজ।

গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি নামে একটি ওয়েবসাইট আছে যারা টাকার বিনিময়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে থাকে যা ভারতের দ্য ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (ইউজিসি) অ্যাক্ট- ১৯৫৬ অনুযায়ী অবৈধ।

সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, বিশ্বের প্রথম শিল্পী হিসেবে ৭০০টির বেশি একক অ্যালবামের রেকর্ড, সুদীর্ঘ ৩০ বছর বাংলা গানকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা ও সমাজসেবা ছাড়াও নানামুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মমতাজ। যে কারণে তারা বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শনিবার ‘ডক্টর অব মিউজিক’ পদক প্রদান করে। এটি দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. পি. ম্যানুয়েল। এর ফলে বহু সম্মানে ভূষিত এ শিল্পী প্রথমবারের মতো ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন।

তবে ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধান বলছে, গ্লোবাল হিউম্যান পিস বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের ইউজিসি অ্যাক্ট-১৯৫৬ অনুযায়ী কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় এবং এটি কোনো ডিগ্রিও প্রদান করতে পারে না। ভারতের ৯৭৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির নামে একটি ওয়েবসাইট পাওয়া গেছে। যা ঘেটে এর স্থায়ী ক্যাম্পাসের কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে তাদের কিছু আঞ্চলিক কেন্দ্রের ঠিকানা দেওয়া আছে। এই ঠিকানাগুলো গুগল ম্যাপে সার্চ করে এই সম্পর্কিত কোনো কিছু পা্ওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও এই ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘেটে বিডি ফ্যাক্টচেক আরও বলছে, এখান থেকে কোনো আন্ডারগ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট ডিগ্রি দেওয়া হয় না। শুধু কিছু অনলাইনভিত্তিক কোর্সের লিংক দেওয়া আছে। তবে সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয় অনেকগুলো বিষয়ে। বিশ্বে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নাই যেখানে আন্ডারগ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট ডিগ্রি না দিয়ে শুধু সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়।

গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি’র বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ডিগ্রি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওয়েবসাইটের প্রশ্নাবলি পাতায় বলা হয়েছে, চ্যারিটি কিংবা গবেষণা উন্নয়ন ব্যয়ের ফান্ড যোগাড় করার জন্য তারা সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করে।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমকে মমতাজ বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত এক বছর আগে আমাকে এই সম্মাননা দেওয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছিল। করোনার কারণে আমি সময় নিয়েছি। আর এই সময়টা আমি নিজেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ-খবর নিয়েছি। আমার কাছে এটি ভুয়া মনে হয়নি। হ্যাঁ, এই নামে অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান বা ঠিকানার খবর আমিও পেয়েছি। তখন এটি নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করি। এটা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সেটি নয়।’

মমতাজ আরও বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে সম্মাননা গ্রহন করেছি। আমি দেখেছি, সেখানে কতো লোক উপস্থিত ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রতিষ্ঠানটি শুধু আমাকে একাই নয়, তাদের দেশের অনেক গুণী মানুষজনকেও সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছে। সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন চেন্নাইয়ের সাবেক জেলা জজ থিরু এজে মুরুগানানথাম, তামিলনাড়ুর আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু খলিফা মাস্তান সাহেবসহ অনেকে। সেখানে হাজির হয়ে বিষয়টি কোনো ভাবেই ভুয়া মনে হয়নি আমার কাছে।’