আড়াই ঘণ্টার ‘লাঞ্চ ব্রেকে’ কাপাসিয়ার সমাজসেবা কর্মকর্তা!

Kapashia news
❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১ ঢাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: ঘড়িতে সময় তখন দুপুর ২টা বেজে ৫ মিনিট। অফিস থেকে বের হয়ে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতিতে বাসায় গেছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা নিলুফা বেগম। অন্যদিকে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সেবা প্রত্যাশীরা। কর্মকর্তা কখন আসবে। কিন্তু আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও এই কর্মকর্তার হদিস মেলেনি।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে এ চিত্র ধরা পড়ে।

এই অফিস প্রধান অর্থাৎ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিলুফা বেগম বিরতিতে বাসায় গেছেন। তাই অফিসের অন্য স্টাফরাও কাজ ফেলে একজন অপরজনের সঙ্গে খোশগল্পে ব্যস্ত।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, সকল সরকারি, আধা-সরকারি (স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত) সংস্থার জন্য সপ্তাহে দুদিন ছুটি রয়েছে। রোববার হতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করতে হবে। দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ৩০ মিনিট নামাজ ও মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি। সময় বাঁচাতে বাসায় না গিয়ে টিফিন সঙ্গে আনার নির্দেশনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাপাসিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিলুফা বেগম সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছামাফিক অফিস করছেন। তিনি অফিস ফেলে  মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে গিয়ে ৩০ মিনিটের বদলে ২ ঘণ্টার বেশি বাসায় সময় কাটান। তিনি নিয়মিত দেড় ঘণ্টা সময় অপচয় করায় সেবা প্রত্যাশীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

সেবা প্রত্যাশী কয়েকজন নারীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। মূলত তাদের কাজটি আটকে যাওয়ার ভয়ে তারা মুখ খুলেনি।

সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রতিদিন কখন বিরতিতে যান জানতে চাইলে এই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) সাইদ বলেন, স্যার প্রচুর কাজ করেন। একেকদিন একেক সময় দুপুরে বাসায় যান। যখনই যান এর কতক্ষণ পর অফিসে ফেরেন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাসায় গিয়ে নামাজ পড়ে দুপুরে খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম করেন। ফিরতে প্রতিদিনই দুই ঘণ্টার মতো লাগে।

আড়াই ঘণ্টার বিরতি কাটিয়ে অফিসে ফেরার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের নিলুফা বেগম বলেন, বিরতিতে বাসায় ছাড়াও বাইরে অনেক কাজ থাকে। আজ বাসায় না গিয়ে কোথাও কাজে গিয়াছিলেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনার কাছে জবাব দিতে বাধ্য নই। আমি যেকোন স্থানে বসে অফিস করতে পারি। রাতেও বাসায় অফিস করি সেটাতো কেউ দেখে না।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদফরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মেসেজ পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।

জানতে চাইলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম  বলেন, ‘দুপুরে নামাজ ও মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি নরমাললি ৩০ মিনিট। এখন তো অফিস সীমিত পরিসরে চলছে। আমাদের ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস খোলা পাবেন।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার ডিসির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বিরতিতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় কাটানো অবশ্যই অনিয়ম। এতে করে রাষ্ট্রের নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হন। পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করা উচিত। অফিস সীমিত মানে বন্ধ নয়। কম জনবল নিয়ে নাগরিকদের জন্য সেবা চালু রাখা। যদি অফিস বন্ধ রেখে বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশনা থাকতো তাহলে ঠিক ছিল। যেহেতু অফিস চালু রেখে তিনি বিরতিতে গিয়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট বা সময়ের অপচয় করছেন সেহেতু এটি বড় একটি অনিয়ম।

তিনি আরও বলেন, কর্মঘণ্টার অপচয় রোধে দফতরগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে এই সমাজসেবা কর্মকর্তার মতো যারা অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এতে করে অন্যরা অফিস ফাঁকিতে নিরুৎসাহিত হবেন।