মধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!

ধর্ষণের শিকার
❏ বুধবার, এপ্রিল ১৪, ২০২১ অপরাধ

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ঘটনাস্থল ফরিদপুরের মধুখালী। মোবাইলফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ২০ বছর বয়সী এক নারীকে বাড়ি থেকে তুুলে নিয়ে দফায় দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

আর ওই নারীকে তার বান্ধবীই এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ঘটনার শিকার নারী।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে অসুস্থ অবস্থায় মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার নারীর বাড়ি মধুখালী পৌর এলাকার পাশের গ্রামে। উপজেলার মাকড়াইল গ্রামে তার বিয়ে হয়েছে। তার তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। কয়েকদিন আগে তিনি তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়িতে আসার পর শহরের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসরত পারুল আক্তারের মেয়ে বান্ধবী রোজিনার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

গত রবিবার (১১ এপ্রিল) রোজিনা ও তার মা পারুলসহ কয়েকজন ওই তরুণীর বাড়িতে যান। সেখানে বিভিন্ন গল্প শেষে ফিরে আসেন তারা। তবে কিছুক্ষণ পর রোজিনা ওই বাড়িতে আবার গিয়ে তার মোবাইলফোন ফেলে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু রোজিনার বান্ধবী বলেন- সে কোনও মোবাইলফোন ফেলে যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসার একপর্যায়ে রোজিনা ওই বাড়ি থেকে চলে আসে। পরে বিকালে রোজিনা ও তার মা পারুল কয়েকজন লোক সঙ্গে নিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এর দুইদিন পর মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে তাকে অচেতন অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, মোবাইলফোন চুরির অপবাদ দিয়ে রোজিনা ও তার মা পারুল আমার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। রবিবার বিকালে তারা আমাকে তুলে নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর এলাকার একটি বাড়িতে রাখে।

রাতে খাবারের সঙ্গে আমাকে কিছু খাওয়ানো হয়। আমি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ি। এরই মধ্যে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক ব্যক্তি। আমাকে ধর্ষণ করে।

ওই তরুণী আরও বলেন, সোমবার সেখান থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয় মধুখালী চিনিকল মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে। রাতে সেখানেও আমাকে কিছু খাওয়ানো হয়। এরপর আমি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ি।

সেখানেও দুই ব্যক্তি আমাকে ধর্ষণ করে, আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে ওরা স্যালাইন খাওয়ায়। তবে আমার অবস্থা খারাপ হতে দেখে মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়।

তিনি বলেন, যারা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে তাদের নাম আমি জানি না। তবে দেখলে চিনতে পারবো। যে বাড়িতে রাখা হয়েছিল সেটাও আমি চিনবো। একজন লোক একটু বয়স্ক, মুখে দাড়ি আছে। আমার সঙ্গে যে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাই।

ওই তরুণীর বাবা বলেন, কয়েকদিন আগেই মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার বাড়ি আসে। এরপরই এ রকম ঘটনা ঘটলো। রোজিনা ও তার মা পারুল এর আগেও অনেক মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে।

আমার মেয়ের তিন বছরের সন্তান রয়েছে। স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে মুখ দেখাবো কি করে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেবো।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান ফিরোজ বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেয়েটির চিকিৎসা করছেন। সন্ধ্যায় ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে ওসিসিতে পাঠানো হতে পারে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই বিস্তারিত জানানো যাবে।

মধুখালী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রথিন্দ্র নাথ তরফদার বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোজিনা ও তার মা পারুল আক্তারকে থানায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে গিয়েছিলাম, সে খুব অসুস্থ। সুস্থতার পর বিস্তারিত শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত মেয়েটির বাবার অভিযোগ হাতে পাইনি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।