কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্র


❏ বুধবার, এপ্রিল ১৪, ২০২১ রংপুর

ফয়সাল শামীম,স্টাফ রিপোর্টার:: প্রায় পানি শুন্য হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার সংকোষসহ ১৬টি নদ-নদী।

এসব নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর ও দ্বীপচর। এতে করে নদী কেন্দ্রীক জীবিকা নির্বাহকারী হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

শুধু জীবিকা নয় এর প্রভাব পড়েছে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্রে। কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার এবং লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে ধরলা ও তিস্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এ জেলার উপর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে।

বছরের পর বছর ড্রেজিংয়ের অভাবে এসব নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দু’কুল ছাপিয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এখন শুকনো মৌসুমে এসব নদ-নদী শুকিয়ে কোথাও কোথাও সরু ক্যানেলে পরিনত হয়েছে।

পুরো নদীর বুক জুড়ে অসখ্য চর জেগে উঠায় এবং পানির ¯্রােত থেমে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নৌ-পথ। বেকার হয়ে পড়েছেন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মৎস্যজীবিরাও।

নদী পাড়ের মানুষ আব্দুস ছালাম বলেন, এক সময় এই নদীতে শুকনো মৌসুমেও পানির যথেষ্ট পানির প্রবাহ ছিল। নদীর পানিতেই চলতো কৃষি কাজ। কিন্তু পুরোটাই এখন উল্টো চিত্র। নদীর বুক জুড়ে ধু ধু বালু চর। অনেক মানুষ নদীর বুকে মিষ্টি কুমরাসহ নানা ফসল চাষাবাদ করছে।

দুধকুমর নদীপাড়ের মানুষ এনামুল হক বলেন, নদীতে কোন পানি নেই। একসময় যে পানির তোড়ে জমির পর জমি বিলিন হয়ে যেতো সে নদী এখন মৃতপ্রায়। নদীর মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করেও তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন।

ধরলা পাড়ের বাসিন্দা রাজু মিয়া বলেন, ধরলা নদীতে কোন পানি নেই। এখন ধরলার পানিতে মাছ ধরে যারা জীবন চালাত তারা এখন প্রায় সকলে বেকার।

কুড়িগ্রাম সরকারী মহাবিদ্যালয়ের উপধ্যাক্ষ ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান,(উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ) মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে নদীর এ বৈরি আচরন বলে মনে করছেন প্রকৃতি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন শুকনো মৌসুমে নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ায় বড় বড় বিলগুলোও পানি শুন্য হয়ে পড়ছে। যার বিরুপ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের মাঝেও।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম, নদী শাসন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে বলে জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মকতা।

দ্রুত নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্রের ভারসাম্য রক্ষার দাবী বিশেষজ্ঞ ও নদী পাড়ের মানুষদের।