🕓 সংবাদ শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় ৬ বছ‌রের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতারলাথি দেওয়া সেই শিক্ষক ছেলের আইনানুগ বিচার চান বাবামানিকগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেফতারহামলা ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ নাকি গাফিলতি, প্রশ্ন ইনুরগোপালগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও নসিমনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দামযুবলীগ চেয়ারম্যানের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি শেয়ার করায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারহিন্দু ভাই-বোনদের ভয় নাই, পাশি আছি: ওবায়দুল কাদেরসহিংসতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • আজ বুধবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২০ অক্টোবর, ২০২১ ৷

কক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!

Cox's Bazar news
❏ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: অত্যাসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায় কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনজুর আলম দাদাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদুর একক স্বাক্ষরিত একটি অব্যাহতিপত্র সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য।

সূত্র মতে, ২০২০ সালের শেষের দিকে ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুর আলমের আকস্মিক মৃত্যুর পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুর আলম দাদাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ দায়িত্বভার পান মনজুর আলম দাদা।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে উল্লাসকারী এক সময়ের বিএনপি নেতা মো. শরিফ এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহি কমিটির দায়িত্বশীল (উপ-প্রচার সম্পাদক)। তার আপন ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ইসলামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। চলতি দশকে ‘আলাদিনের চেরাগে’ অঢেল বিত্তের মালিক হন বছর ছয়েক আগেও অর্থ কষ্টে থাকা নিকট অতীতের ইউনিয়ন বিএনপি নির্বাহি কমিটির সদস্য মো. শরিফ। তাই ভাইয়ের মতো চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে আবিস্কার করতে ততপর হয়ে উঠেন তিনি।

কিন্তু ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান হওয়ায় বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এবং ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ কষ্টসাধ্য দেখে একেবারে পদ বাগিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেন মো. শরীফ। তার হাইব্রিড হওয়ার পথ সুগম করেন আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার বাদি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ জাহান চৌধুরী। মোটা অংকের সুুুুবিধা নিয়ে স্পর্শকাতর সেই মামলাটির আপোষ দেন তিনি। পাশাপাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে পদ দিতে জোর তদবিরও করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের চরম বিরোধিতায় ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান দিতে না পারলেও ‘টাকার পাগল’ উপজেলা সাধারণ সম্পাদককে হাত করে উপজেলা কমিটিতে স্থান পান শরীফ। এরপর থেকে সহজে চেয়ারম্যান হতে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু অনুপ্রবেশকারি হিসেবে তার মনোনয়নের বিষয়ে বিরোধীতা করে আসেছেন সভাপতি মনজুর আলম দাদা। এ কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। আর এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর ঘটনায় সেই সময় পুরো জেলাব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। এখন আবার সমালোচনা হচ্ছে শরীফ ও তার ভাই উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলাটি বাদি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাহার করে নিয়ে অন্যতম আসামীকে আওয়ামী লীগে পদ পাইয়ে দেয়ায়। মামলা করাটি পাপ হিসেবে নিয়ে তা প্রত্যাহার করে বিএনপি নেতা থেকে শরিফকে সদর উপজেলা আওয়ামীগের উপ- প্রচার সম্পাদক বানিয়ে পাপ মোচন করেন শাহজাহান চৌধুরী, এমনটি দাবি ত্যাগী নেতা-কর্মীদের।

জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মনজুর আলম দাদা বলেন, ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দায়িত্বশীল হয়ে শুরু করে আজ মূলদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। বিএনপি-জামায়াতের ঘাটি থাকা ইসলামপুরে কারা নৌকার জন্য ত্যাগী আমাদের চেয়ে কেউ ভালো জানেন না। সুবিধার জন্য কালকে দলে অনুপ্রবেশ করা কারো পক্ষে কাজ করা নীতি বিরোধী। শিক্ষা জীবনে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বপালন করা আমার বর্তমান সেক্রেটারির নৌকার প্রতি কমিটমেন্ট না থাকতে পারে কিন্তু আমার আছে। সেক্রেটারির বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে ইউনিয়ন কমিটির এক সভায় তিনি আরো বলেন, অনুপ্রবেশকারী শরিফকে দলীয় মনোনয়নের পাইয়ে দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন শাহজাহান। আমাকেও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যেন অনাপত্তিপত্র দিই। আমি বিরোধিতা না করে বলেছি চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী আছে আমরা সবার নাম যথাযত মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠাবো। যাকে দলের সভানেত্রী নৌকা মনোনয়ন দিয়ে পাঠাবেন মাঠে তার এবং নৌকার জয়ের জন্য যা করার করবো। তার সমস্ত কর্মকান্ড ওয়ার্ড সভাপতি-সম্পাদক ও নেতাকর্মীদের অপছন্দ হওয়ায় ১২ এপ্রিল আমার অফিসে সবাই বৈঠক করে ইউনিয়ন সেক্রেটারিকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। সেটি জেনে এবং আমার ঘোষণাকে শরীফের বিপক্ষে অবস্থান উল্লেখ করে করোনার প্রভাবে নির্বাচন পেছানোর সুযোগে আমাকে সভাপতির পদ থেকে সরাতে অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহমদুল করিম মাদুকে দিয়ে করানো অপকৌশলটি দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী।

এসব বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরীকে একাধিকবার কল দেয়া হয়। রিং হলেও ফোন রিসিভ করেননি। বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে এসএমএস দেয়া হলেও তারও রিপ্লে দেননি তিনি।

বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু বলেন, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়ায় তাকে (ইউনিয়ন সভাপতিকে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক এককভাবে কাউকে অব্যাহতি দেয়া গঠনতন্ত্র সাপোর্ট করে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাকে দায়িত্বভার দেয়ার সময়ও বৈঠকহীন সভাপতি-সম্পাদক স্বাক্ষরিত পত্র দেয়া হয়, তখনও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। এখন কেন গঠনতন্ত্রের প্রশ্ন আসছে? আমার স্বাক্ষরে করার সুযোগ থাকলে আমি আমার উপজেলা সভাপতিকেও বহিষ্কার করতাম।

শরীফের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ও রাজাকার ছাড়া বিএনপি-জাসদ-সিপিবি ও অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে যেকেউ আসতে পারবে এমন একটা মৌখিক নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেয়া আছে। আগে কে কি ছিলো সেটা বড় কথা নয়, এখন দলে তার দ্বারা কি ক্ষতি বা লাভ হচ্ছে সেটাই মূখ্য উল্লেখ করে শরীফকে সাপোর্ট না করায় ইউনিয়ন সভাপতিকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন মাদু।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি আবু তালেব বলেন, কমিটির সভাপতির মৃত্যু জনিত কারণে গঠনতন্ত্র আনুযায়ী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মনজুর আলম দাদা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছিলেন, এখনো আছেন। আর দলীয় ফোরামে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার সীদ্ধান্ত হয়নি। যখন যা ইচ্ছে করার সুযোগ এখানে নেই। ইসলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ক্লিন ইমেজের নেতা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন