বিয়ের চাপ দেয়ায় প্রেমিকাকে নৃশংস খুন! নেপথ্যে যে রহস্য

খুন
❏ সোমবার, এপ্রিল ১৯, ২০২১ অপরাধ, রংপুর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ দির্ঘদিনের প্রেম ছিলো দুজনের, এদফায় সেই প্রেমের স্বীকৃতি পেতে বিয়ের দাবী জানিয়েছিলো প্রেমিকা। আর সেই দাবীই কাল হয়ে নৃশংস খুন হলো তরুনী।

রেলওয়ে থানার জিআরপি পুলিশ নিতাই (৪৩) এর সাথে নার্স ননিকা রাণী রায় (২৪) দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের দাবি করায় ননিকাকে খুন করে ড্রামের ভেতর ঢুকিয়ে সিটি বাইপাস এলাকার একটি ডোবায় ফেলে আসে নিতাই। পুলিশ জানিয়েছে,পরকিয়ার জেরেই খুন হতে হয় নার্স ননিকা রানী রায়কে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাকারী নিতাইসহ আরও দুই সহযোগী ইতমধ্যেই আটক হয়েছেন পুলিশের হাতে।

এর আগে গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ সিটিহাট এলাকায় একটি ডোবায় মরদেহ ঢোকানো ড্রামটি পাওয়া যায়। সকাল ৯টার দিকে সিটিহাট থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিম দিকে আমচত্বর-কাশিয়াডাঙ্গা বাইপাস সড়কের পাশে ডোবায় ড্রামের ভিতর থেকে একটি পা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এরপর ড্রামের ভিতর এক তরুণীর মরদেহ পাওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পুলিশ মরদেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

এরপর রোববার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করে। নিহত ওই তরুণী ঠাকুরগাঁ সদরের মিলনপুরের নিপেন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ননিকা ডিপ্লোমা শেষ করেন। প্রথমদিকে ননিকা হোস্টেলেই থাকতেন। কিন্তু পাশ করে বের হওয়ার পর তিনি নগরীর সিপাহীপাড়া এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দেয়াতেই ননিকাকে খুন করে নিতাই। তাকে নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ড্রামে ভরে করে ফেলে আসেন নিতাই। এতে সহযোগিতা করেন মাইক্রোবাসের চালকসহ আরও দুজন। তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পুলিশ কনস্টেবল নিতাই চন্দ্র সরকার (৪৩)। তার বাড়ি পাবনার আতাইকুলা উপজেলার চরাডাঙ্গা গ্রামে। তার স্ত্রীও বগুড়ায় পুলিশে কর্মরত।

তার ৩ সহযোগী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারীপাড়ার কবির আহম্মেদ (৩০), রাজপাড়া থানার শ্রীরামপুর এলাকার সুমন আলী (৩৪) এবং মাইক্রোবাসচালক নগরীর বিলশিমলা এলাকার আব্দুর রহমান (২৫)।

এদিকে শাহমখদুম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘রাজশাহী নগরীর সিটিহাট এলাকার একটি ডোবায় পড়ে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১৮ এপ্রিল) নিহত ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবার। নিহত তরুণীর নাম ননিকা রানী রায় (২৪)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদরের মিলনপুরের নিপেন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ননিকা তার ডিপ্লোমা ডিগ্রি সমাপ্ত করে নার্সের চাকরি করতেন।’

রোববার রাতে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন :