রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজত নেতাদের বৈঠক

nurul islam
❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার ধানমন্ডির বাসায় বৈঠক করেছেন হেফাজতের নেতারা। সোমবার রাত দশটার দিকে হেফাজতের অন্তত ১০ জন নেতা বৈঠকের জন্য সেখানে যান।

তাদের নেতৃত্বে ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। তার সঙ্গে খেলাফত আন্দোলনের আমির আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, তার ভাতিজা মাওলানা হাবিবুল্লাহ নিয়াজী, মাওলানা মামুনুল হকের বড়ভাই বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা বৈঠকে অংশ নেন।

প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠক শেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে মন্ত্রীর বাসা থেকে বের হন হেফাজতের নেতারা। বেরিয়ে যাবার সময় হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী শুধু বলেন, ‘সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম।’

হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান জানান, ‘আমরা গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি করেছি। সরকার আমাদের ভুল বুঝেছে- সেটা বলার চেষ্টা করেছি। গত ২৬ মার্চ হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না। কারা সেদিন মিছিল ও ভাংচুর করেছে সেটা তদন্তের দাবি করেছি।’

বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে কি-না জানতে চাইলে জাকারিয়া নোমান বলেন, ‘এটা পরে জানানো হবে।’

বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর করা মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে কথা হয়। হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে নন। সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো আন্দোলনের কর্মসূচিও ছিল না।

তাঁরা আরও বলেছেন, হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা খুলে দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তাঁরা।

বৈঠক শেষে গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মুঠোফোনে বলেন, হেফাজত নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তাঁদের তিনি বলেছেন, পুলিশ নিরীহ কাউকে হয়রানি করছে না। যারা ভাঙচুর–সহিংসতায় জড়িত, শুধু তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যা করা হচ্ছে, সব আইন অনুযায়ীই হচ্ছে। আর মাদ্রাসা খুলে দেওয়া বা বন্ধের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একার কোনো বিষয় নয়।