লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি


❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ বা সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিল (বুধবার) মধ্যরাত পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বা লকডাউন বহাল থাকবে।

উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় এসময় চলমান লকডাউনের সব শর্ত বলবৎ থাকবে।

এ বিষয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার বলেন, চলমান শর্তে ২২ তারিখ থেকে ফের সাত দিনের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। ১৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের মেয়াদ শেষ হবে ২১ তারিখ রাত ১২টায়। ২২ তারিখ ভোর ৬টা থেকে আবারও সাত দিনের লকডাউন শুরু হবে।

লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সোমবার বলেন, জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শক্রমে লকডাউন আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটি বলছে, ভাইরাসের যে চেইনটি কাজ করছে, লকডাউন অব্যাহত রাখা গেলে সেটি এই মাসের শেষে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।

সর্বাত্মক লকডাউনে যে ১৩ নির্দেশনা

১. সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান সমুদ্র ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সব পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেলপথ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

৪. শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলো (স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদান সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্য দোকান বন্ধ থাকবে।

৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

১০. সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

১১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি করবে।

১৩. উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজনের সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

প্রথমে আর্থিক খাত বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।