🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৬ অক্টোবর, ২০২১ ৷

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে জেলের মাছ ছিনতাইয়ের অভিযোগ


❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১ রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে জেলেদের মাছ ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে জিয়াউর রহমান (৩৩) নামে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে মতিয়ার রহমান (৪৮) নামে এক ইউপি সদস্যকে মারধর করে আহত করার হয়।

এ ঘটনায় শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগী জেলে রহমত আলী বাদী হয়ে জিয়াকে প্রধান আসামী করে আরও একজনকে আসামী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের এলাকার ৩ নং ওয়াডের্র তিস্তা নদীতে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত ওই ইউপি সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

জিয়া তিস্তা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত। তিস্তা নদীতে তাকে চাঁদা না দিয়ে মাছ শিকার করলে সে জেলেদের মাছ জোর করে বিনামূল্যে নিয়ে যায় বলে অনেক জেলেই এ দাবী করেন।

অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান উপজেলার দোয়ানী পিত্তিফাটা এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। এছাড়া সে উপজেলা ছাত্রলীগের দোয়ানী ইউনিটের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি। তবে বর্তমানে সে ছাত্রলীগের কেউ নন বলে দাবী করেন হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি।

ইউপি সদস্য দোয়ানী পিত্তি ফাটা এলাকার ডা. মো: দবির উদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলার গড্ডিমারী ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য। ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী জেলে রহমত আলী উপজেলার দোয়ানী পিত্তিফাটা এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত পাহালি পরামানিকের ছেলে এবং তিনি দোয়া তিস্তা ব্যারাজ মৎস জীবি সমবায় সমিতির সভাপতি।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় অসহায় গরীব ২২ জন জেলেদের নিয়ে গঠিত দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ মৎস জীবি সমবায় সমিতি। সেই সমিতির সভাপতি জেলে রহমত আলীর নেতৃত্বে ব্যারাজের পিছনের তিস্তা নদী থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন সমিতির সকলে। প্রায় বছর দুয়েক আগ থেকে চাঁদার জন্য জেলেদের নদী থেকে মাছ ধরতে বাধা দিয়ে আসতেছে জিয়া গং। এরই মাঝেই বেশ কয়েকবার চাঁদা টাকা না পেয়ে ঝামেলা করে জোর পূর্বক ২-৩ কেজি বৈরালী মাছ নিয়ে চলে যায়। টাকাতো দেইনা উল্টো ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন।

এমতাবস্তায় গত ১৯ এপ্রিল জেলেরা তিস্তা ব্যারাজ এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের তিস্তা নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরতেছিলো। এ সময় জিয়াসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে মাছ ধরতে বাধা দেন। যদি দশ হাজার টাকা দেয় তাহলে মাছ ধরতে পারবে না হলে পারবে না। এতে রহমত আলীসহ অন্যান্যরা চাঁদা দিকে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে জিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে জেলেদের ধরা ৮শত টাকা মূল্যের বৈরালী মাছ জোর পূর্বক চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে এতে বাধা দেন রহমত। ফলে জিয়া গং রহমের উপর হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে।

এ সময় গড্ডিমারী ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান ছুটে এসে রহমতকে রক্ষা করে জিয়াকে চলে যেতে বলে। কিন্ত জিয়া চলে না গিয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি সদস্যের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় অন্যান্য স্থানীয়রা তাহা দেখিয়া তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান।

এ বিষয়ে উপজেলার দোয়ানী ইউনিট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ওরা নিজেরাই চলতে পারে না। কোন রকম মাছ ধরে দিন পার করে। ওরা দশ হাজার টাকা কই পাইবে। আমি তাদের কাছে কোন চাঁদা দাবী করিনি। এটা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে আহত ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, ওই জিয়া প্রায় জেলেদের উপর অবিচার করে। জেলেরা অনেক কষ্টে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা দশ হাজার টাকা কই পাবো। উল্টো টাকা ছাড়া মাছ নিয়ে যায়। বাধা দেয়ায় রহমতকে মারধর করে। আমিও বাধা দিতে গিয়ে জিয়ার মারধরের স্বীকার হই। আমি জিয়ার বিচার চাই।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম শাহরিয়ার জিহান বলেন, জিয়া বর্তমান ছাত্রলীগের কেউ না। দোয়ানী শাখা ছাত্রলীগের কমিটির সাবেক সভাপতি। এখন ছাত্রলীগের কোন পদে বা কমিটিতেই নেই। সে সম্ভবত যুবলীগের রাজনীতি করে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন :