কবে শেষ হবে মির্জাপুরের ৮ কিলোমিটার রাস্তা; লাখো মানুষের দুর্ভোগ

⏱ | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২২, ২০২১ 📁 ঢাকা
road r

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নবগঠিত ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া-কামারপাড়া সড়কের ০৮ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ না হওয়াতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার পাশ্ববর্তী দক্ষিণাঞ্চলসহ ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া এলাকার লাখো মানুষের। সড়ক উন্নয়ন কাজের ২ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটির উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই বছর পূর্বে পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া সড়কের ০৮ কিলোমিটারের উন্নয়ন কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবনি এন্টারপ্রাইজ। ফ্লাড প্রকল্পে ০৪ কোটির অধিক টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এই উন্নয়ন কাজে। কিন্তু দুই বছরে বেশ কয়েকবার কাজ ধরলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ সম্পন্ন না করেই চলে গিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি করার জন্য পাশের আবাদি জমি থেকে মাটি নিয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যবহারের কথা থাকলেও আদৌ পর্যন্ত মাটি কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে মাটিগুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে এতে মাটিগুলো অপচয় হচ্ছে। অপরদিকে প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ব্যাপক ধুলিকণারও সৃষ্টি হচ্ছে সড়কে।

অপরদিকে আশপাশের ফসলি জমি ও অন্যান্য ফসলাদিরও নষ্ট হচ্ছে এই ধুলিকণার কারণে। স্থানীয়রা জানায়, ভাওড়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে পাইখার ভাওড়া এলাকার ০৩ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশার কারণে বিভিন্ন অসুস্থ্য রোগীদেরও হাসপাতালে নিতে খুব হিমশিম খেতে হয় চালক ও রোগীর স্বজনদের। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা চান সকলেই।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোখলেছুর রহমান মুকুল বলেন, ভাওড়া, কামারপাড়ার এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মির্জাপুর যাতায়াত করে লক্ষাধিক মানুষ। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে সর্বসাধারণের যাতায়াতে সুবিধা হবে।

ভাওড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর বলেন, দু’পাশের ফসলি জমি নষ্ট করে সড়কে মাটি দেয়া হলো, কিন্তু হঠাৎ করে দেখি লোক নাই। কি কারণে তা জানতে পারি নাই। আমরা সড়কটি দ্রুত সংস্কার চাই।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাওড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এই রাস্তার এ অবস্থা। জনগণের চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে রাস্তার ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরাবর চিঠি দিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির কাজ শুরু করা হবে।