• আজ শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৫ মে, ২০২১ ৷

রংপুরে ছেলেসহ সাংবাদিক জুয়েলের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

Rongpur_987
❏ শনিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২১ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো- বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের রংপুর বিভাগের নিজস্ব প্রতিবেদক আনজারুল ইসলাম জুয়েল (জুয়েল আহমেদ) ও তাঁর ছেলে নিবিড় আহমেদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে জুয়েল আহমেদ বাদী হয়ে মুমিনুর রহমান রতন ওরফে রতন সরকার নামের এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী পৌর এলাকার মাস্টারপাড়া মহল্লার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আনজারুল ইসলাম জুয়েল (জুয়েল আহমেদ) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের রংপুর বিভাগের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। তিনি রংপুর নগরীর ডিসির মোড়সংলগ্ন বর্ধনকুঠিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। পেশাগত কারণে নীলফামারী পৌরসভার প্রগতিপাড়া মহল্লার আবুল হাসান ইলিয়াসের ছেলে রংপুর নগরীর আর কে রোড এলাকার বাসিন্দা মুমিনুর রহমান রতন ওরফে রতন সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে রতন সরকার সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদাবাজি করছিলেন। এ ছাড়া মাদক ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনসহ রতনের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করেন জুয়েল আহমেদ। একই এলাকার ছেলে হিসেবে তাঁকে অপকর্ম থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি। এতে রতন সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও জুয়েলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়সংলগ্ন মার্কেটের তিন তলায় বাংলা ভিশনের রংপুর অফিস কার্যালয়ে ক্যামেরাপারসন শাহনেওয়াজ জনি, শিক্ষানবিশ সাংবাদিক আহামেদ ফারুখসহ লকডাউনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য যান জুয়েল। কাজ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে সিটি বাজারে সবজি কেনার উদ্দেশ্যে অফিস থেকে বের হন।

তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় আসামি মুমিনুর রহমান রতন ওরফে রতন সরকার কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালান। তারা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি প্রাণভয়ে সিঁড়ির নিচে নেমে চলে আসার সময় আবারো রতন সরকার তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। আঘাতটি জুয়েলের মাথায় না লেগে সিঁড়ির রেলিংয়ে লাগলে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

রতনের সহযোগীরা জুয়েলকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আসামি রতন সরকার আবারো হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তিনি দৌড়ে বাংলা ভিশনের অফিসে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় দলবলসহ রতন তাঁকে অফিস থেকে বের করে রাস্তায় আনার চেষ্টা করেন।

এদিকে, জুয়েলের বড় ছেলে রংপুর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র নিবিড় আহমেদ (১৭) জুয়েলের সঙ্গে দেখা করে বাজার নিয়ে যা‌ওয়ার জন্য আসলে আসামি রতনের হুকুমে অজ্ঞাত আসামিরা তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নিবিড়।

এ সময় আসামি রতন সরকার ছেলের গলায় পা তুলে দিয়ে চেপে ধরেন এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাংলাভিশনের ক্যামেরাপারসন শাহনেওয়াজ জনি ও অন্যরা এসে নিবিড়কে উদ্ধার করেন। পরে নিজের জীবন রক্ষার জন্য মার্কেটের দোতলা থেকে পালিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমানের কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন জুয়েল।

এদিকে, খবর পেয়ে আসামিরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য সাংবাদিকদের সহায়তায় কোনো রকমে সেখান থেকে বেরিয়ে বাসায় চলে যান জুয়েল। বাসায় পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি এবং রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন জুয়েল।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনা তদন্ত শেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।