ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

❏ রবিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২১ রংপুর
thakurgaon-map

কামরুল হাসান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:  ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মারপিটের পর স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বর্তমান ওই গৃহবধু ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত শনিবার আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমনই অভিযোগ করেন গৃহবধু মাহফুজা আক্তার (৩৫)।

পরিবারের লোকজন জানায়, প্রায় ১৮ বছর আগে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ছোট সিংগিয়া গ্রামের পজির উদ্দীনের ছেলে সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় সদরের আখানগর ইউনিয়নের মধ্য ঝাড়গাঁও গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে মাহফুজা আক্তারের। বিয়ের পর থেকে প্রায় সময় মাহফুজা আক্তারকে মারপিট করত তার স্বামী সাদেকুল ইসলাম। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার এসব বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেও দিয়েছেন। তারপরও থেকে নেই গৃহবধু মাহফুজা আক্তারের উপর তার স্বামীর নির্যাতন। ওই গৃহবধুর ২টা মেয়ে ও ১টা ছেলে সন্তান রয়েছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধু মাহফুজা আক্তার বলেন, গত মঙ্গলবার আমি রোজা ছিলাম, বিকেলে বাড়িতে ফিরে কোন কারণ ছাড়াই আমার স্বামী সাদেকুল ইসলাম আমাকে মারপিট করে। যেহেতু রোজা ছিলাম তাই এর কোন প্রতিবাদ করিনি। তারপর দিন বুধবার সকালে আমার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী। এতে আমার শরীরের পেছন অংশ ঝলসে গেছে। এর আগেও অনেকবার আমাকে আমার স্বামী মারপিট করেছিল, স্থানীয়ভাবে সেসব ঘটনাগুলো মিমাংশা হয়েছিল।

পরে পরিবারের লোকজন গৃহবধু মাহফুজা আক্তারকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

গৃহবধুর বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমার মেয়ের শরীরে জামাই আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মেয়ের শরীরের পেছন অংশ ঝলসে গেছে। সে বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা ভাল নয়, আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাই, কিন্তু জামাই সাদেকুল ইসলাম নিতে দেয়না, সে আমাদেরকে উল্টো হুমকি ধমকি দিচ্ছে, আমাদেরকে নাকি সে পুলিশে ধরিয়ে দিবে। তিনি বলেন, আমরা অসহায় ও গরীব মানুষ হওয়ার কারণে প্রায়সময় আমার মেয়ের উপর এমন অত্যাচার নির্যাতন জামাই সাদেকুল ইসলাম। আমি এ ঘটনায় জামাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

অভিযুক্ত স্বামী সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমি আমার স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেইনি। সে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজেই তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এখন আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে স্ত্রীকে মারপিট করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই বাকবিতন্ডা হতো, এগুলো বিষয়তো স্থানীয়ভাবে আপোষ হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রকিবুল আলম চয়ন বলেন, আগুন দিয়ে গৃহবধু মাহফুজা আক্তারের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে তার শরীরের পেছন অংশের ১৫ শতাংশ ঝলসে গেছে। তাকে আমরা নিবির পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান বলেন, গৃহবধুর শরীরে তার স্বামী আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এ ধরনের কোন লিখিত অভিযোগ কেউ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।