🕓 সংবাদ শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গায় ৬ বছ‌রের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতারলাথি দেওয়া সেই শিক্ষক ছেলের আইনানুগ বিচার চান বাবামানিকগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেফতারহামলা ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ নাকি গাফিলতি, প্রশ্ন ইনুরগোপালগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও নসিমনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দামযুবলীগ চেয়ারম্যানের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি শেয়ার করায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারহিন্দু ভাই-বোনদের ভয় নাই, পাশি আছি: ওবায়দুল কাদেরসহিংসতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • আজ বুধবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২০ অক্টোবর, ২০২১ ৷

দুই বছর গবেষণায় সাফল্য, এবার পাতে ফিরবে ঢেলা

mymensing news
❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৭, ২০২১ ফিচার

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টারঃ একসময় দেশের নদ-নদী, হাওর ও বিলে প্রচুর পরিমাণে ঢেলা মাছ পাওয়া যেত। ধীরে ধীরে জলবায়ু পরিবর্তন, অতি আহরণ ও জলাশয় সংকোচনের কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র বিনষ্ট হয়ে যায় এবং এই মাছ প্রায় বিলুপ্তির তালিকায় চলে আসে। ফলে ঢেলা মাছ এখন প্রায় দুষ্প্রাপ্য এবং উচ্চ মূল্যে বাজারে বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) স্বাদু পানি গবেষণা কেন্দ্রে টানা দুবছর গবেষণা চালিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো হারিয়ে যাওয়া ঢেলা মাছের পোনা উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করেছে বিজ্ঞানীরা। ফলে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিলুপ্তপ্রায় ঢেলা মাছ শিগগিরই খাবার টেবিলে ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

গবেষক দলে ছিলেন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কোহিনুর, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ শাহা আলী, উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিনা ইয়াসমিন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আওয়াল।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন উৎস্য থেকে ঢেলা মাছের পোনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রের পুকুরে তা নিবিড়ভাবে প্রতিপালন করা হয়।প্রতিপালনকালে এর খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস পরীক্ষা করা হয় এবং সে অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। এর বাইরে বছরব্যাপী জিএসআই ও হিস্টোলজি পরীক্ষণের মাধ্যমে এর সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়।

হিস্টোলজি পরীক্ষাকালে দেখা যায়, ঢেলা মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হচ্ছে মে-জুন। তবে এপ্রিলের শেষের দিক থেকে প্রজননকাল শুরু হয়। ঢেলা মাছের ডিম ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে প্রতিগ্রামে ৭০০-৮০০টি।

গবেষণায় দেখা যায়, একটি স্ত্রী ঢেলা মাছ প্রায় ৬-৮ গ্রাম ওজনের হলেই প্রজনন উপযোগী হয়। প্রজনন উপযোগী পুরুষ ঢেলা মাছ আকারে অপেক্ষকৃত ছোট (৪-৫ গ্রাম) হয়। প্রকৃতিতে স্ত্রী ঢেলা মাছের চেয়ে পুরুষ ঢেলা অপেক্ষাকৃত কম পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানান, প্রকৃতিতে স্ত্রী ও পুরুষ ঢেলা প্রাপ্তির অনুপাত হচ্ছে ৪:১ অর্থাৎ চারটি স্ত্রী ঢেলার সাথে মাত্র একটি পুরুষ ঢেলা থাকে। গবেষণায় ১০ জোড়া ঢেলা মাছকে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। হরমোন প্রয়োগের ৮-৯ ঘণ্টা পর ডিম ছাড়ে এবং ২২ ঘণ্টা পরে নিষিক্ত ডিম থেকে রেণু পোনা উৎপাদিত হয়। এ সময় ডিম নিষিক্ততার পরিমাণ ছিল প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ। উৎপাদিত পোনা বর্তমানে ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি কেন্দ্রের হ্যাচারিতে প্রতিপালন করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, অন্যান্য দেশি মাছের তুলনায় ঢেলা মাছে প্রচুর খনিজ পদার্থ আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেলা মাছে ভিটামিন ‘এ’ ৯৩৭ আইইউ, ক্যালসিয়াম ১২৬০ মিলিগ্রাম এবং জিংক ১৩.৬০ শতাংশ, যা অন্যান্য দেশি মাছের তুলনায় অনেক বেশি। ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে, ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়তা করে। তা ছাড়া জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

পরিসংখ্যান মতে, ২০০৮-০৯ সালে চাষের মাধ্যমে দেশীয় ছোট মাছের উৎপাদন ছিল ৬৭ হাজার টন। পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ সালে হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টন অর্থাৎ গত ১২ বছরে চাষে দেশীয় মাছের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, বিপন্ন প্রজাতির সব দেশীয় মাছকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে ইনস্টিটিউটে সাম্প্রতিককালে ছোট মাছের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহস্থ স্বাদুপানি কেন্দ্রে ২০২০ সালে একটি ‘লাইভ জীন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট কর্তৃক কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় ঢেলা মাছকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং চাষের মাধ্যমে এর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণসহ গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০২০ সালে গৌরবজনক ‘একুশে পদক’ লাভ করে।

মহাপরিচালক আরো বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা পরিচালনা করে ইতোমধ্যেই পাবদা, গুলশা, টেংরা, বৈরালীসহ ২৪টি দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেছে। ফলে এসব মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা সাম্প্রতিককালে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বর্তমানে পিয়ালী, কাজলী, বাতাসি, কাকিলা, রাণী ও গাং টেংরাসহ আরো ১০টি মাছ নিয়ে গবেষণা চালানো হচ্ছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন