ঢাকায় পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না কক্সবাজারের ৩ ভূমিদস্যুর


❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৭, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের তৈতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় বিচারক, আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচটি পরিবারের দুই একরের বেশি কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে রোহিঙ্গা বসতি স্টাইলে অর্ধশতাধিক ঘরও নির্মাণ করে পূর্বের নাম রফিকের ঘোনা পাল্টে রাতারাতি ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করার ঘটনায় তিন ভূমিদস্যুকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা তিনজনই কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা নং-৩৬/২৫৫ এর প্রধান আসামি। কামাল উদ্দিন ও শেখ কামালের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো অনেক মামলা।

তারা হলেন, স্থানীয় বাদশা মিয়ার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল উদ্দিন (৪০), তার ভাই শেখ কামাল মেম্বার (৩৮) ও মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক (৪১)।

এ খবর নিশ্চিত করেছেন ভিকটিম পরিবারের সদস্য ও হাইকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী বোরহান উদ্দীন রব্বানী।

তিনি জানান, মামলার পর থেকে আসামিরা নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই মাঝে প্রধান তিন আসামি মো. কামাল উদিদ্ন, শেখ কামাল মেম্বার ও আবু বক্কর ছিদ্দিক উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে ঢাকায় চলে যান। খবরটি তারা পুলিশকে অগত করেন। সঠিক তথ্য নিয়ে ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গত ২০ এপ্রিল মামলাটি করেছিলেন তেতৈয়া রফিকের ঘোনার মৃত হাজি আবুল হোছাইনের ছেলে রফিক আহমদ।

এ মামলায় এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামিরা হলেন, মৃত ফজল করিমের ছেলে আবু ছৈয়দ প্রকাশ মুন্সি আবু ছৈয়দ (৪৫), জাফর আলমের ছেলে মো. ইলিয়াছ (৩৫), মৃত বেক্কুর ছেলে মো. কাসেম (৩৪), নুরুল ইসলামের ছেলে মনিউল আলম (৩৮), মৃত মোক্তার আহমদের ছেলে শাহিন আলম (৪০), আবদু সালামের ছেলে মিজানুর রহমান (২৯), আবদুল মজিদের ছেলে সেলিম উল্লাহ (৩১) ও জাফর আলমের ছেলে হামিদ হোসেন (৪৩)।

মামলায় এজাহারনামীয় ১১ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে আরও ১২ জন। যাতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালী, সবজি ক্ষেত বিনষ্ট করে ক্ষতিসাধন, ব্যাপক মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে মামলার বাদি ও জমির মালিকপক্ষ নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে ‘মহাপরিকল্পনা’ হাতে নিয়ে এগুচ্ছে দখলবাজচক্র। নিজেদের তৈরিকৃত ঝুপড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে মালিক পক্ষকে ফাঁসানোসহ অনেক ফন্দি আঁটছে তারা। জমির মালিকদের এলাকা ছাড়া করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। ছকমতে এগুতে পরামর্শ করেছে আশ্রয়দাতা নেতাদের সাথে। এ সব নিয়ে গত শনিবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে গোপন বৈঠক করেছে।

বাগান পাহারায় নির্মিত ঘরে মাদক-অস্ত্র ঢুকিয়ে দিয়ে যে কোন বাহিনীকে ব্যবহার করে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে দখলদারদের।

চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দিনের পিতা রফিক আহমেদ, ছেলে সরওয়ার অথবা ভাতিজা বোরহান উদ্দীন এই তিনজনের মধ্যে যে কোনও একজনকে ভাড়াটিয়া মহিলা দিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে গণধোলাই দেওয়ার পরিকল্পনা আঁটা হয় গোপন বৈঠকে।

দখলদারদের উচ্ছেদ না করার দাবিতে কথিত ভূমিহীনদের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিচারক কামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার বিষয়টা গুরুত্ব পায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শিক্ষানবিশ আনইনজীবী বোরহান উদ্দীন গত ২৫ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং-১২০৭।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের তৈতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দীনের পরিবারের দুই একরেরও বেশি কৃষিজমি ও কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অধীনে বরাদ্দকৃত সামাজিক বানায়ন দখল করে ‘মুজিবনগর’ নাম দেয়া হয়। ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের আশ্রয়ন’ ব্যানার টাঙিয়ে শতাধিক ঝুপড়ি নির্মাণ করে একটি চিহ্নিত চক্র।

দখল নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে অভিযুক্ত কামাল মো. উদ্দীন কামালের ছবিও রয়েছে। ব্যানারে লেখা হয়েছে-‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার।

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দখলকৃত জমির মালিক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ব্রিটিশ ভারতের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ফৌজ আর্মির সদস্য মৃত আবুল হোসেন। তিনি খুরুশকুলের তেতৈয়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দিন, হাইকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী বোরহান উদ্দীন রব্বানীসহ পাঁচজন ব্যক্তি এসব কৃষিজমির মালিক। রয়েছে বন বিভাগের সৃজিত সামাজিক বনায়নভুক্ত জমি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন