হেফাজত ও খেলাফত মজলিস নিষিদ্ধের দাবি ইসলামী ফ্রন্টের

৫:০৬ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৯, ২০২১ চট্টগ্রাম
islami font

সময়ের কণ্ঠস্বর, চট্রগ্রাম- ইসলামের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিরতা নিরসনে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামের নামে নৈরাজ্যের প্রতিবাদ ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক-ধর্মীয়ক্ষেত্রে চলমান অস্থিরতা নিরসনকল্পে সাত দফা দাবি সম্বলিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব এম এ মতিনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ।

সাত দফার অন্য দাবিগুলো হলো- জঙ্গি সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করা, কওমি মাদ্রাসাকে অডিটের মধ্যে এনে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, আলিয়া-কওমি উভয় ধারাকে অভিন্ন শিক্ষানীতির আলোকে পরিচালনা, কওমি-হেফাজতি জঙ্গিদের অর্থ ও মদদদাতা সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা, খেলাফত মজলিসের নিবন্ধন বাতিল, নারী নিপীড়ক, ধর্ষক, হত্যাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ওঠে দ্রুত আইনে সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যারা এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী নয় তারাই আজ ইসলামের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে রাজাকার, আল বদর, আশ শামস বাহিনীর বিচার হলেও একাত্তরে একই রকম যুদ্ধাপরাধে যুক্ত ওহাবী মতাদর্শী কওমি মুজাহিদ বাহিনীর বিচার না হওয়ায় তারা আজ এদেশে মধ্যযুগীয় কায়দায় তালেবানি মডেলে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নৈতিক পদস্থলন ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হেফাজতকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের কমিটি বিলুপ্তি বা নতুন কমিটি গঠন করা ইতোপূর্বে সংগঠিত জঙ্গিবাদী অপরাধকে মার্জনা করে না। সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিংয়ে হেফাজতের রাজনৈতিক সংগঠন খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। এ তথ্য যদি সত্য হয় তবে খেলাফত মজলিসের নিবন্ধন বাতিলসহ জঙ্গি সম্পৃক্ততার কারণে এ দলটিকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সব কওমি জঙ্গি নয়, তবে সব জঙ্গি কওমি। তাই কওমি জঙ্গিদের আর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে বিচার করতে হবে। একইসঙ্গে কওমি-হেফাজতি জঙ্গিদের মদদদাতা যে দলেরই নেতাকর্মী বা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা হোক না কেন, সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাময়িক চুক্তিবদ্ধ বিয়ে হারাম ঘোষণা দিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত বাংলাদেশের শীর্ষ ৫৫১ জন আলেম প্রেরিত বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতাও পোষণ করা হয়।