ফরিদপুরে ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড়, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

১২:৪৬ অপরাহ্ন | শনিবার, মে ১, ২০২১ ঢাকা
market

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এ জেলার মানুষ। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের বিপণি বিতানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। এ পরিস্থিতিতে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও। অনেক দিন পর সীমিত আকারে মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলো খোলায় প্রশাসন কিছুটা শিথিল আচরণ করছে বলে একাধিক ব্যক্তি জানান ।

ফরিদপুর শহরের বিপনিবিতানসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের প্রতিটা দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ বন্ধের পর সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি ও প্রশাসনিক নানা শর্তে দোকানপাট ও মার্কেট খোলার পর সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকান মালিকরা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করলেও ক্রেতারা বেপরোয়া। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজার গুলোতেও একই অবস্থা বিরাজমান।

শনিবার জেলা শহরের বিভিন্ন বিপণি বিতাণ ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ঈদকে কেন্দ্র করে গাদাগাদি করে কাপড়ের দোকান, কসমেটিক্স, তৈরী পোষাক ও জুতার দোকানে মানুষ তাদের পছন্দের পণ্যটি কেনাকাটা করছেন। এদের মধ্যে কেনাকাটা করতে আসা অধিকাংশই নারী ও শিশু। তবে তাদের বেশির ভাগই মানছেননা স্বাস্থ্য বিধি। আবার অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নাকের নিচে মাস্ক পড়তে দেখা গেছে।

ফরিদপুর শহরের নিউ মার্কেটের কণিকা বস্ত্রালয়ের মালিক জয় কাজী বলেন, ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তাই আমাদের ঝুঁকি নিয়েই বেঁচা-কেনা করতে হচ্ছে।

হাবিব টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান বলেন, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকে মাস্ক পড়তে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করার অনুরোধ করছেন। তবু্ও অনেকেই মানছেননা।

শহরের তিতুমীর মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাথী আক্তার নামের এক তরুণী জানান, আমার কাছে মাস্ক আছে। তবে অনেক গরম ও ভিড়ের কারণে মাস্ক খুলে রেখেছি।

ফরিদপুরের সালথা থেকে কেনাকাটা করতে আসা মামুনুর রহমান বলেন, অনেককেই দেখছি পুলিশ কিংবা প্রশাসনের লোক দেখলে তাৎক্ষণিক মাস্ক পড়ছেন আবার পুলিশ চলে গেলেই মাস্ক খুলে ফেলছেন।

কেনাকাটা করতে আসা জুয়েল ও ওলিয়ার নামের আরো দুই ব্যক্তি জানালেন, যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাফেরা করছে মানুষ, তাতে মনে হচ্ছে করোনা আরো ভয়াবহ রুপ ধারণ করতে পারে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া, মার্কেট কমিটির লোকদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেঁচা করা ও মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করার অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসন বলছেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও জনসমাগম এড়াতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। যদি কেউ না মানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।