রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল


❏ শনিবার, মে ১, ২০২১ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। করোনার আবহের মধ্যে প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই নির্বাচন ঘিরে ভারতবাসীর মধ্যে রয়েছে তুমুল উত্তেজনা।

কে জিতবে এই নির্বাচনে? কার দখলে যাবে ‘নবান্ন’? ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসেই জনতার রায় নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসবে; নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথমবারের মতো এ রাজ্যে ক্ষমতার দখল নেবে­­- তা পরিষ্কার হয়ে যাবে এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে ভোট হয়েছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয় ২৭ মার্চ। আট দফায় চলে ভোটগ্রহণ, যার শেষ দফা ছিল গত বৃহস্পতিবার। রোববার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’ হচ্ছে ১৪৮ আসন।

মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর- এই দুটি বিধানসভায় দুই ভিন্ন দলের প্রার্থী করোনায় মারা যান। এ কারণে ওই দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ মে এ দুটি আসনে নির্বাচন হবে। গণনা হবে আগামী ১৯ মে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এদিন আসামে ১২৬টি, কেরেলায় ১৪০টি, তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পডুচেরির ৩০টি আসনের বিধানসভার নির্বাচন ও দেশজুড়ে কয়েকটি উপনির্বাচনেরও ভোটগণনা হবে।

কী বলছে বুথফেরত জরিপ:-----

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষেই বেরিয়েছে নানা বুথ ফেরত সমীক্ষা। এসব সমীক্ষার মতে, কেউই এবারে ম্যাজিক ফিগারের পৌঁছানোর আসন পাচ্ছে না। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। এর বাইরে রয়েছে বাম-কংগ্রেস-ইনডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের জোট। যদিও কোনো সমীক্ষাতেই তাদের খুব বেশি পাওয়ার আভাস মিলেনি। যদিও এই ধরনের সমীক্ষার ফলাফল যে সবসময় মিলবে, তা নয়। কখনো কখনো সমীক্ষার উল্টো ফলও হয়। বিশ্লেষকরা এই ধরনের সমীক্ষাকে সাধারণত ভোটের ফলাফলের ‘ইঙ্গিত মাত্র’ বলে মনে করেন, তবে তা চূড়ান্ত কিছু নয়।

এরই মধ্যে প্রকাশিত সি ভোটারের সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তৃণমূল পেতে পারে ১৫২ থেকে ১৬৪টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১০৯ থেকে ১২১টি আসন। সংযুক্ত মোর্চা পেতে পারে ১৪ থেকে ২৫টি আসন।

সিএনএক্স এর সমীক্ষা বলছে, তৃণমূল পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৩৮টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১৩৮ থেকে ১৪৮টি আসন। জোট পেতে পারে ১১ থেকে ২১টি আসন।

টাইমস নাওয়ের সমীক্ষা বলছে, তৃণমূল পেতে পারে ১৫৮টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১১৫টি আসন। জোট পেতে পারে ১৯টি আসন।

পি মার্গ সমীক্ষা বলছে, তৃণমূল পেতে পারে ১৫২ থেকে ১৭২টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১১২ থেকে ১৩২টি আসন। জোট পেতে পারে ১০ থেকে ২০টি আসন।

সিএনএনের সমীক্ষা মতে, তৃণমূল পেতে পারে ১৬২টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১১৫টি আসন। জোট পেতে পারে ১৫টি আসন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ১৪৩টি আসন। তৃণমূল পেতে পারে ১৩৩টি আসন। জোট পেতে পারে ১৬টি আসন।

এক পায়েই ‘খেললেন’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার খুব জনপ্রিয় শব্দবন্ধ ছিল ‘খেলা হবে’। তৃণমূলপ্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই শব্দটি তাঁর নির্বাচনী সভা-সমাবেশে বিরোধীদের উদ্দেশে প্রচুর ব্যবহার করেছেন। ফলে ‘খেলা হবে’ নিয়ে নেটমাধ্যমে, গণমাধ্যমে প্রচুরও কথা হয়েছে, দেয়াল লিখন হয়েছে, কার্টুনও হয়েছে।

কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে শুরুতেই নিজের আসন নন্দীগ্রামে গিয়ে পায়ে আঘাত পান মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপর থেকে গোটা নির্বাচনি সময়ই তিনি এক পা ব্যান্ডেজ করে হুইলচেয়ারে বসে প্রচার চালিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ভোট শেষ হওয়ার পর অন্যান্য নেতাদের মতো মমতা-ঘনিষ্ঠ বীরভূমের আলোচিত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ফাইন খেলা হল। খেলব বলেছিলাম, খেললাম। ভালো টিমের সঙ্গে খেললাম। খেলা দেখিয়ে দিলাম। ভালোই খেলা হয়েছে।’
বিজেপির উত্থান

তিন দশকের বেশি সময়ের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক দশক আগে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বসেছিল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তখন তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মূলত বাম ও কংগ্রেস। এবারই সরাসরি বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

অথচ পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই রাজ্যে মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সেই বিজেপিই ১৮টি আসন দখল করে। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিজেপির জনপ্রিয়তা। তৃণমূলের অনেক সংসদ সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন।