• আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, রাত ৮:২৯

কেন এমন ফল, প্রশ্ন অমিত শাহের

❏ রবিবার, মে ২, ২০২১ আন্তর্জাতিক
omit

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপর্যয়ের কারণ জানতে চেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতা ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির অন্যতম নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

রোববার সাংবাদিকদের কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘ভোটের ফল এমন হলো কী করে, তা জানতে চেয়েছেন অমিতজী। তিনি আরো বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ ফল মেলার পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।’

‘এ বার, ২০০ পার’ স্লোগান নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে নির্বাচনের ভোট গণনার প্রথম পর্বে সেই স্লোগানের বদলে বিজেপি কার্যত ১০০ আসন পার হওয়া নিয়ে ভাবছে।

ভোটের সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২০৪ টিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি জয় পেয়েছে ৮৪ টি আসনে।

অর্থাৎ, একশ আসনেও জয়ী হতে পারেনি বিজেপি। এমনকী নির্বাচনকে ঘিরে যারা তৃণমূল ও অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই জিততে পারেননি।

এদিকে এই হারের জন্য দায়ী করে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর দিকে আঙুল তোলা শুরু করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতাদের একাংশ।

সরাসরি মোদি-শাহর নাম মুখে না নিলেও রাজ্যের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সেনাপতি হয়েছিলেন যারা জিতলে তারা কৃতিত্ব নিতেন। এখন হারের দায়ও তাদেরই নিতে হবে।’

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব রাজ্যের হাত থেকে নিয়ে নেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোন এলাকায় দল কেমন অবস্থায় রয়েছে তা দেখভাল করতে কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর পরে কী কী না করেছে বিজেপি!

পাঁচটি পরিবর্তন রথ থেকে ২৯৪ কেন্দ্রে আলাদা আলাদা রথযাত্রা। কৃষক সুরক্ষা যাত্রা থেকে কৃষকদের সঙ্গে ‘সহভোজ’ কর্মসূচির পর কর্মসূচি ঠিক করেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

এইসব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রাজ্যে সাংগঠনিক কাজে জোর দেয়া যায়নি বলে সেই সময়েই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অনেক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ‘আমরা জিতলে রাজ্যের সংগঠনেই জিতব। আর হারতে হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তামঝামের জন্য।’

রোববার (২ মে) ফলের প্রাথমিক ধারণা মেলার পরেই সেই নেতারা আরও স্পষ্ট করে একই অভিযোগ তুলছেন। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘জেলায় জেলায় অন্য রাজ্য থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিশ্বাস দেখিয়েছেন। বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও নিজেদের রাজ্যের অভিজ্ঞতা বাংলায় প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। বারবার বলেও কাজ হয়নি। যে ফল হতে চলেছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, সেটা ঠিক হয়নি।’

বিজেপির ভেতরের পারস্পারিক দোষারোপ এখনো সামনে না এলেও এমন আলোচনাও শুরু হয়েছে যে, অনেক জায়গাতেই দলের পুরোনো নেতাকর্মীদের ওপরে ভরসা না করে নবাগতদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক ক্ষুব্ধ নেতার বললেন, ‘প্রার্থী ঠিক করার ক্ষেত্রেও রাজ্য নেতাদের কথা অনেক সময়েই শোনা হয়নি। তাতে নিচুস্তরের কর্মীদের মনোবল ভাঙা হয়েছিল। এখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সমর্থকদের মনোবলও ভেঙে গিয়েছিল।’