নন্দীগ্রামে হারলেও মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা নেই মমতার

❏ সোমবার, মে ৩, ২০২১ আন্তর্জাতিক
momota

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে ভোটের ফল নিয়ে বিকেল থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি আর নাটকীয়তার অবসান ঘটেছে শেষ পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, সত্যিকারের জয় পেয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।

এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয় পেলেও দলের প্রধান মমতা হারলেন নিজের আসনে।

এখন অনেকের কাছেই প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, বিশাল জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো তৃণমূল রাজ্যে সরকার গঠনের জনরায় পেলেও মমতা বন্দোপাধ্যায় কি রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন।? মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখতে হবে দেশটির সংবিধান এ সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ বা তার বেশি। এছাড়া হতে হবে বিধানসভার সদস্য। তবে শর্তসাপেক্ষে বিধানসভার সদস্য না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যাবে।

বিধানসভার সদস্য না হয়েও কেউ যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, সেক্ষেত্রে তাকে নিতে হবে রাজ্যপালের অনুমতি। হেরে যাওয়ার পরওদল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং দলের বিধায়করা কাউকে নেতা নির্বাচিত করলে তার মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তবে ভোটে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ওই পদে বসার ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে যে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। তা না পারলে ছেড়ে দিতে হবে পদ। ফলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হতে কোনো বাধা নেই।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে এবার প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ার দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। ফলে এর মধ্যে একটি আসনে ছয় মাসের মধ্যে জিতে এলেই মমতার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার বাধা কাটবে।

তিন দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, ওই সময় তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে তিনি লড়েননি। পরে দল জয় পেলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেন তৃণমূলের বিধায়কেরা । এরপর লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেন মমতা।

ভবানীপুরে সুব্রত বক্সির জেতা আসনে উপনির্বাচনে জিতে আসেন তিনি। পরে ২০১৬ সাল পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি।